কাল থেকে রমনায় শুরু হচ্ছে 'শোভন জামালী ওপেন টেনিস টুর্নামেন্ট ২০২৬'

হেরাল্ড প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০ এএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
Main News Image

বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের উদ্যোগে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স, রমনা, ঢাকায় 'শোভন জামালী ওপেন টেনিস টুর্নামেন্ট ২০২৬' অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এবারের টুর্নামেন্টে গতকাল পর্যন্ত সারাদেশ থেকে মোট ১৭৮ জন টেনিস খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের ক্লাবসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স, বিকেএসপি, ঝালকাঠি টেনিস ক্লাব, রাজশাহী টেনিস ক্লাব, সিলেট টেনিস ক্লাব, মাদারীপুর টেনিস ক্লাব, জামালপুর টেনিস ক্লাব, মাগুরা টেনিস ক্লাব, শরিয়তপুর টেনিস ক্লাব, গুলশান ইয়ুখ ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব, ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাব ও অন্যান্য।

প্রতিযোগিতায় মোট ৪টি ক্যাটাগরিতে খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইভেন্টসমূহ হলো পুরুষ একক, পুরুষ দ্বৈত, মহিলা একক এবং মহিলা দ্বৈত।

এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স, রমনায় একটি সংবাদ সম্মেলন  অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সভাপতি জনাব শফিকুল ইসলাম সরকার, রেজাউল হাসান জামালী, প্রয়াত শোভন জামালী এর চাচা, ইশতিয়াক আহমেদ (কারেন), সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশন, জনাব এম এ জিন্নাহ, কোষাধক্ষ, বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশন। ৫. জনাব মুয়াম্মার আহমেদ, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, Zedandzed IT Services Ltd., জনাব মো. আরিফুজ্জামান চৌধুরী, টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর, বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশন, মোহাম্মদ আলী আকবর, টুর্নামেন্ট রেফারি, বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশন।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স, রমনা, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। 

শোভন এম. জামালীর স্মরণে

বাংলাদেশের টেনিস ইতিহাসের অন্যতম সফল ব্যক্তিত্ব শোভন এম. জামালী জন্মগ্রহণ করেন ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে, ঢাকায়, এবং ২৫ এপ্রিল, ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় ইন্তেকাল করেন। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় জুনিয়র এককে শীর্ষস্থান (নাম্বার ওয়ান) অধিকার করেছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে তিনি একক বিভাগে ১৯৮৬. ১৯৮৭ ও ১৯৯১ সালে এবং দ্বৈত বিভাগে ১৯৮৬, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৮৯ ও ১৯৯১ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।

তাঁর গৌরবময় ক্রীড়াজীবনে তিনি বাংলাদেশ ডেভিস কাপ দলের হয়ে একাধিকবার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৬ সালে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে, ১৯৮৭ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে, ১৯৮৮ সালে চাইনিজ তাইপে-র বিরুদ্ধে (যেখানে তাঁর রিভার্স সিঙ্গেলস জয় ছিল ডেভিস কাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ জয়), এবং ১৯৮৯ সালে ইরাকের বিরুদ্ধে একক ও দ্বৈত উভয় ম্যাচ জিতে বাংলাদেশকে ডেভিস কাপ টাই-এ প্রথম ঐতিহাসিক জয় এনে দেন। এরপর একই বছর সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধেও উভয় ম্যাচ জিতিয়ে দলকে জোনাল সেমিফাইনালে পৌঁছে দেন, যেখানে পাকিস্তানের মুখোমুখি হন। ১৯৯১ সালে বাহরাইনের বিরুদ্ধে দ্বৈত ও একক ম্যাচ জিতিয়ে বাংলাদেশকে টাই জয়ে সহায়তা করেন। এছাড়া তিনি ১৯৯০ সালে বেইজিং-এ অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং তাঁর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার তালিকায় রয়েছে উইম্বলডন জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ, ইউএস ওপেন জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ-সহ এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিযোগিতা।

তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৬ সালের জন্য বাংলাদেশ ক্রীড়া সাংবাদিক সমিতির শ্রেষ্ঠ টেনিস খেলোয়াড় পুরস্কার এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শ্রেষ্ঠ টেনিস খেলোয়াড় পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎকর্ষ, নিষ্ঠা ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার প্রতীক শোভন এম. জামালীর এই অবদান আজও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টেনিস খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। বাংলাদেশের টেনিসের উন্নয়ন ও সাফল্যে তাঁর অসামান্য অবদানকে বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশন গর্বের সাথে সম্মান জানাচ্ছে।