গ্রিনল্যান্ড নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছালো যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৮ এএম
আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ এএম
Main News Image

গ্রিনল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বসবাস করে। ছবি: সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধিগ্রহণ হুমকির মুখে সৃষ্ট কূটনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে একটি যৌথ চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে উভয় দেশের সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

চুক্তির মূল শর্ত ও গুরুত্ব
 চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পাবে। এছাড়া ডেনমার্ক বা গ্রিনল্যান্ডের আলাদা অনুমতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ, সেনা মোতায়েন ও আকাশপথ ব্যবহার করতে পারবে।

মার্কিন অনুমতি ছাড়া চীন বা রাশিয়ার মতো নেটো-বহির্ভূত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি রাখতে পারবে না বা দ্বীপটির কোনো সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না।
ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হলেও এই চুক্তির কার্যকারিতা শেষ হবে না।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া প্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় প্রচুর অপরিশোধিত বিরল খনিজ সম্পদ রয়েছে এই দ্বীপে।

বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া
ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট) জানান, এই চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি কোনো অর্থ খরচ হচ্ছে না এবং এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা পুরোপুরি সুরক্ষিত হবে।

মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন (ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী) বলেন, চুক্তিটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করবে। একই সাথে এটি ডেনমার্ক রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। তবে এটি বাস্তবায়নে সংসদীয় অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

জেন্স-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন (গ্রিনল্যান্ডের সরকার প্রধান) চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এটি গ্রিনল্যান্ডের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

মার্কো রুবিও (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী) এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি "ঐতিহাসিক বিজয়" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।