সিকিমে ভূমিধসের ফলে আংশিক অবরুদ্ধ তিস্তা নদী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ এএম
Main News Image

সিকিমের মাঙ্গান জেলায় পাহাড়ি ধসের ফলে চিয়াকুং ও তিস্তা নদীর জলপ্রবাহ আংশিকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে একটি কৃত্রিম বাঁধের সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর সিকিমের নাগা বনাঞ্চল ও থেং টানেল সংলগ্ন এলাকায় পাহাড় ধসে নদীতে মাটি ও পাথর জমা হওয়ায় এই প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়, যার পেছনে বিপুল পরিমাণ জল জমে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিস্তা নদীর জলপ্রবাহ ধীরগতিতে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং উপনদী চিয়াকুংয়েও ক্ষীণ স্রোত বইছে। সঙ্কলং ও ফিদাং এলাকায় জলস্তর আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধসের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে জমে থাকা জলের সঠিক পরিমাণ এখনো অজানা। চুংথাং থানা ও থেং চেক পোস্ট থেকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে মাঙ্গান ও চুংথাং প্রশাসন যৌথভাবে পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। এছাড়া ধসের কারণে নাগা–তোসা সড়কের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সতর্কতা ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

পরিস্থিতি সামাল দিতে সিকিমের স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথোরিটি (এসএসডিএমএ) এবং স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। মাঙ্গানের জেলা শাসক স্থানীয় অধিবাসীদের নদীর তীর থেকে দূরে থাকার এবং প্রয়োজনে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলায় তিস্তা অববাহিকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গজলডোবা, বাসুসুবা ও বাগরাকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে নদী সংলগ্ন ঝুলন্ত সেতু ও রাস্তা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধসের ব্লকেড পুরোপুরি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। নতুন করে ভারী বৃষ্টি বা পুনরায় ভূমিধস হলে এই কৃত্রিম বাঁধ ভেঙে গিয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) দেখা দিতে পারে।

ডাউনস্ট্রিম ও বাংলাদেশের ওপর প্রভাব: বাঁধ ভাঙলে প্রবল জলচ্ছ্বাসের সাথে ধেয়ে আসা কাদা ও ধ্বংসাবশেষ (ডেব্রিস) উত্তরবঙ্গের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে মেখলিগঞ্জ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে, যা দুই দেশের সীমান্তবর্তী নদী অববাহিকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে।

হিমবাহ হ্রদের ঝুঁকি: সিকিমে ৫০টিরও বেশি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহ হ্রদ (গ্লেসিয়াল লেক) রয়েছে। ২০২৩ সালের চুংথাং তিস্তা-থ্রি বাঁধ বিপর্যয় বা সাম্প্রতিক নেপাল দুর্ঘটনার মতো এখানেও আকস্মিক বন্যা ঘটলে সমগ্র অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।