চোখের নীচের কালি কমানোর উপায়

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
Main News Image

চোখের নীচের কালচে ভাব বা ডার্ক সার্কেল মুখের সমস্ত সৌন্দর্য এক নিমেষে নষ্ট করে দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে চোখের নীচে হালকা কালো দাগ দেখা যায়, আবার কারও চোখের চারপাশে গাঢ় বাদামি ছোপ পড়ে। সাধারণত ঘুম কম হওয়া বা অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে এই সমস্যা দেখা দিলেও সবসময় বিষয়টি তেমন নয়। বংশগত বা জিনগত কারণ, বয়স বৃদ্ধি কিংবা হরমোনের তারতম্যের জন্যও চোখের নীচে কালি পড়তে পারে।

সাধারণ ক্লান্তি বা ঘুম না হওয়ার কারণে কালি পড়লে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও গভীর ঘুমই এর মূল সমাধান। পাশাপাশি চোখের নীচের বলিরেখা এড়াতে নারকেল তেল দিয়ে হালকা ম্যাসাজ করা যেতে পারে। অনেকেই আলু বা শসার টুকরো ব্যবহার করেন, তবে এতে সবসময় কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না। তাহলে ঘরোয়া ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মত কী কী উপায় অবলম্বন করতে পারেন?

১. খাদ্যাভ্যাস বা ডায়েটে বদল
ত্বকের স্বাস্থ্যের সঙ্গে খাবারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ত্বক টানটান ও উজ্জ্বল রাখতে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। অতিরিক্ত ভাজাভুজি বা প্রক্রিয়াজাত খাবার (প্রসেসড ফুড) এড়িয়ে পাতে রাখুন টাটকা শাকসবজি, মাছ, ডিম, মাংস এবং আনারস, বেদানা বা পেঁপের মতো ফল।

২. নিয়মিত প্রাণায়াম 
দিন বা রাতের যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে প্রাণায়াম করতে পারেন। এটি স্নায়ু শান্ত রাখতে সাহায্য করে, ফলে ঘুম গভীর হয়। পর্যাপ্ত ঘুম চোখের নীচের কালি দূর করার অন্যতম প্রধান শর্ত।
৩. রাতে ঘুমানোর আগে ম্যাসাজ
প্রতিদিন রাতে শুতে যাওয়ার আগে কাঠবাদামের তেল (আলমন্ড অয়েল), নারকেল তেল অথবা ভালো মানের আন্ডার-আই ক্রিম দিয়ে চোখের চারপাশে হালকা হাতে মালিশ করুন। এতে রক্তের সঞ্চালন বাড়ে এবং বয়সের ছাপ ও বলিরেখা কম পড়ে। প্রয়োজনে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসকের নির্দেশিত কোনো ক্রিমও ব্যবহার করতে পারেন।
৪. আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি
যদি বংশগত কারণে বা অতিরিক্ত মেলানিনের জন্য চোখের নীচের কালি কিছুতেই না কমে, তবে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া যায়:
লেজার থেরাপি: এই থেরাপির মাধ্যমে চোখের চারপাশের অতিরিক্ত মেলানিন ভেঙে দেওয়া হয় এবং নতুন কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করা হয়।
ফিলার্স: অনেকের চোখ কিছুটা কোটরগত বা ভিতরের দিকে ঢোকানো হওয়ার কারণে কালচে দেখায়। সে ক্ষেত্রে ফিলার ব্যবহার করে চোখের নীচের অংশ স্বাভাবিক রূপ দেওয়া সম্ভব।

তবে জিনগত কারণ থাকলে এই কালি হয়তো পুরোপুরি দূর করা কঠিন, কিন্তু সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়ম মেনে ঘুম এবং চোখের চারপাশের যত্ন নিলে কালচে ছোপ অনেকটাই হালকা করা সম্ভব।