হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
Main News Image

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলতি বছরে নতুন রিট দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার লক্ষ্যণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুনের হিসাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪,৭২৯টি নতুন রিট দায়ের হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে ৯,৫৯০টি—যা নতুন মামলার প্রায় দ্বিগুণ। তবে এখনও সেখানে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৯টি।

বিচারিক শৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল  জানান যে, প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে আদালতে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তিনি মামলায় অতিরিক্ত চাপের পেছনে মূলত ৩টি বড় কারণ চিহ্নিত করেছেন:

ব্যক্তিস্বার্থ ও আত্মপ্রচার
 জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) আড়ালে অনেকে নিজের স্বার্থ বা মিডিয়ার সামনে প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে মামলা দায়ের করছেন।

আপিল বিভাগের রায় অবমাননা
 সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের রায় মেনে চলা বাধ্যতামূলক। যেমন, বেসরকারি ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট চলে না—এমন স্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও তা নিয়মিত বেঞ্চে গ্রহণ করা হচ্ছে।

অধস্তন আদালত এড়ানো
 জমি বা সীমানা বিরোধের মতো ব্যক্তিগত বিষয়ে সরাসরি হাইকোর্টে মামলা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা আইনত নিম্ন আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ৫ ধরনের রিট
হেবিয়াস করপাস (Habeas Corpus): কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হলে তাকে আদালতে সশরীরে হাজির করার নির্দেশ।
ম্যান্ডামাস (Mandamus): কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠান আইনি দায়িত্ব পালন না করলে তা পালনের নির্দেশ।
সার্টিওরারি (Certiorari): নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের আইনবহির্ভূত আদেশ বাতিল করা।প্রহিবিশন (Prohibition): একতিয়ারের বাইরে গিয়া নিম্ন আদালত কার্যক্রম শুরু করলে তা স্থগিত বা বন্ধ করা।
কো-ওয়ারেন্টো (Quo Warranto): কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে কোনো সরকারি পদে অধিষ্ঠিত আছেন কি না, তার বৈধতা যাচাই করা।

জনস্বার্থে রিটের সাফল্য
'মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ' ঐতিহাসিক মামলার রায়ের মাধ্যমে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও জনস্বার্থে রিট করার ভিত্তি তৈরি হয়। এই আইনি হাতিয়ার ব্যবহার করে বিচার বিভাগ থেকে বড় বড় সাফল্য এসেছে:
বাংলাদেশের নদীগুলোকে 'জীবন্ত সত্তা' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান।
নদ-নদী দখলদার উচ্ছেদ, পাহাড় কাটা রোধ ও অবৈধ ইটভাটা বন্ধ।
জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ।
দুর্ঘটনায় নিহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা।
বিচারিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ব্যক্তিগত স্বার্থের রিট বন্ধ করা সম্ভব হলে হাইকোর্টে মামলার জট ও চাপ বহুগুণ কমে আসবে।