বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার ও বাড়তি ফি: গ্রাহক অসন্তোষের ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিলে অতিরিক্ত মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট যুক্ত হওয়া এবং প্রিপেইড মিটারে টাকা লোডের শুরুতেই ফি কেটে নেওয়া নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষ ও আন্দোলন বাড়ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেয়েও নিয়মিত বাড়তি ফি গুণতে হওয়ায় এই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
*অতিরিক্ত চার্জ ও গ্রাহক অসন্তোষের কারণ*
বিতরণ লাইন ও অবকাঠামো প্রস্তুত রাখার ফি (ডিমান্ড চার্জ) হিসেবে প্রতি কিলোওয়াট লোডের জন্য ৪২ টাকা কাটা হয়। বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও প্রতি মাসে এ ফি বাধ্যতামূলক (যেমন: ২ কিলোওয়াট লোডে ৮৪ টাকা এবং ১৫ কিলোওয়াটে ৬৩০ টাকা)।
গ্রাহকের নিজস্ব মিটার না থাকলে সিঙ্গেল-ফেজ প্রিপেইড মিটারে ১০ বছর মেয়াদে মাসে ৪০ টাকা (মোট ৬,০০০ টাকা) এবং থ্রি-ফেজে মাসে ২৫০ টাকা (মোট ২৫,০০০ টাকা) ভাড়া বাবদ নেওয়া হয়।
প্রিপেইড মিটারের জটিলতা রয়েছে। রিচার্জ করার সাথে সাথেই ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও ৫% ভ্যাট একবারে কেটে নেওয়া হয়। ফলে ব্যবহার করার আগেই ব্যালেন্স কমে যাওয়ায় গ্রাহকরা বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ হচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জে গণ-অনশন, সমাবেশ ও মিটার ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রিপেইড মিটার ও অতিরিক্ত বিলের প্রতিবাদে দেশের অন্তত ৩০টি জেলায় গ্রাহক অধিকার কমিটি গঠিত হয়েছে।
*বিশেষজ্ঞ মতামত*
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা, ড. এম শামসুল আলম বলেন, চাহিদামতো বিদ্যুৎ দিতে না পারায় ডিমান্ড চার্জ আদায়ের নৈতিক ভিত্তি নেই। মূল বিতরণ চার্জের বাইরে আলাদা মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ আদায়কে তিনি বাড়তি অর্থ আদায়ের বাহানা হিসেবে আখ্যা দিয়ে এটি বিইআরসি (BERC) কর্তৃক পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান।
বুয়েটের অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী বলেন, ২৪ ঘণ্টা সেবা না দিয়ে পুরো মাসের ডিমান্ড চার্জ কাটায় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অনাস্থা তৈরি হয়েছে। গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে কোনো স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া অডিট করার পরামর্শ দেন তিনি।
*বিতরণ সংস্থা ও বিইআরসির বক্তব্য*
ডিপিডিসি (মো. হানিফ উদ্দিন) বলেছেন, প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে চার্জের হার একই, এতে কোনো বাড়তি টাকা কাটা হয় না বরং বিলে স্বচ্ছতা আসে। এককালীন মিটার না কিনলেই কেবল ভাড়া নেওয়া হয় এবং প্রিপেইড গ্রাহকরা বিলের ওপর ০.৫% ছাড় পান।
বিইআরসি (BERC) জানিয়েছে, ডিমান্ড চার্জ যাচাই-বাছাই করেই নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়লেও এটি বাড়ানো হয়নি। সরকারি কমিটির তদন্তে প্রিপেইড মিটারে কোনো কারিগরি ত্রুটি মেলেনি, তবে ভাড়া আদায়ের বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
*সূত্র :* বিবিসি বাংলা