ডিজাস্টার ওয়ার্নিং ব্যবস্থা কেন আগাম সঙ্কেত দিতে ব্যর্থ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
Main News Image

গত ২৬ আগস্ট নেপালের রাসুয়ার লেন্দে উপত্যকায় হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে বরফ, পাথর ও হিমশীতল জলের তোড় তীব্র গতিতে নীচের দিকে নেমে এসে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদী উপত্যকায় হড়পা বানের সৃষ্টি করে। কিন্তু বিপর্যয় শুরুর দীর্ঘ ৩৮ মিনিট পর স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছায়। ততক্ষণে নদীর জল ও পাথরের তোড়ে একের পর এক গ্রাম নিশ্চিহ্ন হতে শুরু করেছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের এই চরম ব্যর্থতার পেছনে একাধিক প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও সমন্বয়হীনতার কারণ সামনে এসেছে।

বিপর্যয়ের প্রথম মুহূর্তেই আগাম সতর্কবার্তা না পৌঁছানোর প্রধান কারণ ছিল ভূকম্পন শনাক্তকরণে বিভ্রান্তি। হিমবাহটি ধসে পড়ার সময় নেপালের খনি ও ভূতত্ত্ব বিভাগ ৪.৪ মাত্রার একটি কম্পন রেকর্ড করেছিল। তবে ন্যাশনাল আর্থকোয়েক মনিটরিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের মতে, এই কম্পনের ধরনের সঙ্গে সাধারণ ভূমিকম্পের কম্পনের মিল ছিল না। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা চালু করা হয়নি।

বিপদ চিহ্নিত করার দ্বিতীয় সুযোগটিও নষ্ট হয়ে যায় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ায়। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ভোটেকোশী নদীর জলস্তর আচমকা বাড়তে শুরু করলে স্যাব্রুবেসীতে বসানো জলস্তর পরিমাপক যন্ত্রটি অস্বাভাবিক পরিবর্তন রেকর্ড করার আগেই জলের তোড়ে ভেসে যায়। ফলে নদীর জল বাড়ার তথ্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি।

এরপর সকাল ৯টায় রসুয়া জেলা প্রশাসন জলবিভাগ ও আবহাওয়া দফতরকে বিষয়টি অবহিত করে। কিন্তু ততক্ষণে স্থানীয় যোগাযোগ রক্ষাকারী টাওয়ারটি জলের তোড়ে ভেঙে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে প্রশাসন মাইকিং, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং দরজায় দরজায় গিয়ে মানুষদের সচেতন করার চেষ্টা চালায়।

অবশেষে বিপর্যয় শুরুর ৩৮ মিনিট পর, সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং এবং চিতওয়ানের বাসিন্দাদের মোবাইলে 'ডিজাস্টার ওয়ার্নিং' সিস্টেম থেকে বার্তা পাঠানো হয়। বার্তাটিতে ত্রিশূলী নদীর জলচ্ছ্বাস থেকে বাঁচতে দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা অনেকের কাছে পৌঁছাতে আরও বেশি দেরি হয়।

নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, দেশে এখনও আধুনিক আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। শুধুমাত্র কয়েকটি সেন্সর বসানোই যথেষ্ট নয়; উজানের দিকে থাকা সেন্সরের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় সাইরেন এবং মোবাইল সাইলেন্ট মোডে থাকলেও উচ্চ শব্দে অ্যালার্ট আসার মতো প্রযুক্তির সমন্বয় করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এ পর্যন্ত ১,২২৫ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৪,২১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।