শান্তি বিনির্মাণে নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান। । ছবি: সংগৃহীত
সমাজে ন্যায়বিচার, সমতা, মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রধান ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শান্তি বিনির্মাণে নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘শান্তির সংস্কৃতিবিষয়ক কর্মসূচির উচ্চপর্যায়ের ফোরাম’-এ বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শান্তি প্রক্রিয়ায় নারী নেতৃত্ব জোরদারে তিনি মূলত তিনটি বিশেষ অগ্রাধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রথমত, শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতিটা ধাপে নারীদের পূর্ণ, সমান ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, কিশোরী ও তরুণ নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা—বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তাঁদের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত সাক্ষরতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া। এবং তৃতীয়ত, সংঘাত প্রতিরোধ, মানবিক সহায়তা প্রদান, সামাজিক সহনশীলতা বৃদ্ধি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় নারী-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে টেকসই ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়া।
আইরিন খান উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা থাকা সত্ত্বেও শান্তি আলোচনায় নারীদের প্রতিনিধিত্ব এখনো পর্যাপ্ত নয়। এমনকি নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও নারীরা প্রায়শই উপেক্ষিত হন। তাই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নারীর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের সাহসিকতা ও অবদানের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দেশের তৃণমূল পর্যায়সহ জাতীয় নাগরিক সমাজে মানবাধিকার রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নারী নেতৃত্বের অগ্রণী ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন স্থায়ী প্রতিনিধি।