দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকলে আঙুলের চামড়া কেন কুঁচকে যায়

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
Main News Image

দীর্ঘক্ষণ বাসন মাজা, কাপড় কাচা কিংবা জলে সাঁতার কাটার পর আঙুলের ডগার চামড়া কুঁচকে যাওয়া একটি অত্যন্ত পরিচিত অভিজ্ঞতা। সাধারণ ধারণামতে, বেশিক্ষণ জলে হাত ভিজিয়ে রাখলে ত্বকের আর্দ্রতা বা তেলের স্তর নষ্ট হয়ে যায় বলে এমনটা ঘটে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো সাধারণ আর্দ্রতা হারানোর বিষয় নয়; এর পেছনে কাজ করে মানবশরীরের একটি বিশেষ স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া।

'মাসল অ্যান্ড নার্ভ' জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জল ঘাঁটার পর চামড়া কুঁচকে যাওয়ার নেপথ্যে ‘ভ্যাসোকনস্ট্রিকশন’ বা রক্তনালি সঙ্কুচিত হওয়ার প্রক্রিয়াটি মূল ভূমিকা পালন করে। পানিতে হাত বা পা দীর্ঘক্ষণ ডুবে থাকলে শরীরের স্বয়ংক্রিয় ‘সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম’ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে আঙুলের ডগায় থাকা সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো সংকুচিত হতে শুরু করে এবং সেখানে রক্তপ্রবাহ তাৎক্ষণিকভাবে কমে যায়।

রক্তপ্রবাহ হ্রাস পাওয়ার কারণে ত্বকের নিচের টিস্যুর সামগ্রিক আয়তন কিছুটা কমে যায়। টিস্যুর আয়তন কমলেও উপরের চামড়ার আয়তন একই থেকে যায়, যার ফলে ত্বকের উপরিভাগে ঢেউয়ের মতো ভাজ বা কুঁচকানো ভাব ফুটে ওঠে। শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় হাতের আঙুলের ডগা এবং পায়ের পাতায় স্নায়ু ও রক্তনালির ঘনত্ব অনেক বেশি থাকে বলেই কেবল এই নির্দিষ্ট অংশগুলোতেই এমন প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

কাজ শেষে হাত বা পা শুকিয়ে গেলে এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে ত্বক আবার আগের মতো মসৃণ হয়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, জলে কাজ করার পর আঙুল কুঁচকে যাওয়া মোটেও ক্ষতিকর বা ভয়ের কিছু নয়, বরং এটি একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক স্নায়বিক সংকেত।