অ্যাডাল্ট অ্যাকনি ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা
কৈশোরে হরমোনের তারতম্যের কারণে মুখে ব্রণের (অ্যাকনি ভালগারিস) সমস্যা অত্যন্ত সাধারণ। তবে অনেক সময় বয়স বাড়ার পর—বিশেষ করে ২৫, ৩০ কিংবা ৪০ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও নতুন করে ব্রণের উপদ্রব দেখা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘অ্যাডাল্ট অনসেট অফ অ্যাকনি’ (এওএ)। বয়ঃসন্ধিকালের ব্রণের মতো এটি সহজে সারতে চায় না। মূলত মানসিক চাপ, উচ্চ মাত্রার কর্টিসল হরমোন নিঃসরণ, অনিয়মিত জীবনযাত্রা ও ওজনের তারতম্যকে এর কারণ হিসেবে গণ্য করা হলেও সম্প্রতি এক ভারতীয় গবেষণায় এর আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে।
কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এ সম্পন্ন হওয়া এই গবেষণাটি সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা ‘স্প্রিঙ্গার নেচার গ্রুপ’-এর ‘কিউরিয়াস’ (Cureus) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ১১২ জন রোগীর ওপর পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, বয়স্কদের ব্রণের পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ওজন এবং অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস। গবেষণাপত্রের তথ্য অনুযায়ী, বড় বয়সের ব্রণ পুরো মুখমণ্ডলে (২৭%) হওয়ার চেয়ে থুতনি ও চোয়ালের নিচের অংশে (৪৭%) বেশি দেখা যায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নারীদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (PCOS) এবং অনিয়মিত ঋতুস্রাব এই সমস্যার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বিশিষ্ট ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞ ড. কৌশিক লাহিড়ীর মতে, গবেষণার ফলাফল চিকিৎসকদের দৈনন্দিন ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার সঙ্গেই হুবহু মিলে যায়। তিনি জানান, যাঁদের ওজন অত্যধিক বেশি, শরীরে অতিরিক্ত লোম কিন্তু মাথার চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে কিংবা নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাশয়ে সিস্ট ও অনিয়মিত ঋতুচক্রের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের মধ্যেই অ্যাডাল্ট অ্যাকনি বেশি দেখা যায়। অন্য এক ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞ ড. সুরজিৎ গরাই স্পষ্ট করেন, অতিরিক্ত ওজন শরীরের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকে ব্যাহত করে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে ত্বকে। চিকিৎসকদের মতে, গত এক-দেড় দশকে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও ওবেসিটির কারণে এই সমস্যা বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ফাস্টফুড, প্রসেসড ফুড, অতিরিক্ত চিনি ও ময়দা জাতীয় খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া জরুরি। এর বদলে পর্যাপ্ত জল পান, প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া এবং প্রতিদিন নিয়ম করে শারীরিক ব্যায়াম করা উচিত। এতে কেবল স্থূলতা বা ওবেসিটিই নিয়ন্ত্রণ হবে না, বরং বড় বয়সের জেদি ব্রণের হাত থেকেও নিস্তার পাওয়া সম্ভব হবে।