গলা ব্যথায় গরম পানি কতটা কার্যকর?
ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে গলা ব্যথা, খুসখুসে কাশি কিংবা নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যায় কমবেশি অনেকেই ভোগেন। এসব ক্ষেত্রে সচরাচর পরামর্শ দেওয়া হয় গরম পানি, গরম চা কিংবা স্যুপ খাওয়ার, যাতে গলায় স্বস্তি মেলে। তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ওয়েলনেস ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করছেন, সর্দি-কাশিতে নাকি গরম পানি খাওয়া একদমই উচিত নয়। এই দাবি কি আদৌ সত্য, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যাখ্যা রয়েছে?
সর্দি-কাশিতে শরীরে কী ঘটে? : ঠান্ডা লাগা বা গলা ব্যথার মূল কারণ ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন এসব জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে, তখন নাক ও গলার ভেতরের টিস্যুতে প্রদাহ (inflammation) তৈরি হয়। এর ফলেই গলা ব্যথা, হাঁচি ও কাশির উদ্রেক হয়। এ সময় শরীরে পানির ঘাটতি হলে মিউকাস বা কফ ঘন হয়ে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই চিকিৎসকরা এ সময়ে শরীরকে পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড রাখার তাগিদ দেন।
ফুটন্ত গরম পানি পানের ঝুঁকি : শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা জরুরি হলেও অত্যধিক গরম বা ফুটন্ত পানি পান করা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। গলার ভেতরের টিস্যু অত্যন্ত নরম ও সংবেদনশীল। ফুটন্ত গরম পানি বা অত্যধিক গরম খাবার গ্রহণ করলে তা গলার সংবেদনশীল কোষ পুড়িয়ে ফেলতে পারে এবং খাদ্যনালির ক্ষতি করতে পারে। এতে গলার প্রদাহ কমার বদলে উল্টো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণেই চিকিৎসকেরা ফুটন্ত গরম পানি দিয়ে গার্গেল করতেও নিষেধ করেন।
গলা ব্যথায় পানি ও তরল পানের সঠিক পদ্ধতি : গলা ব্যথায় ফুটন্ত পানি ক্ষতিকর—এর অর্থ কিন্তু সব ধরনের গরম পানীয় বর্জন করা নয়। মূল বিষয় হলো পানির তাপমাত্রা সঠিকভাবে নির্বাচন করা, ফুটন্ত পানির বদলে সহনীয় উষ্ণ বা ঈষদুষ্ণ পানি পান করলে তা গলায় আরাম দেয়, কফ পাতলা করতে সাহায্য করে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। ফুটন্ত পানি পান না করে তার ভাপ নিলে নাসারন্ধ্র ও শ্বাসনালির বন্ধ ভাব দূর হয় এবং জমে থাকা কফ সহজে বের হয়ে আসে।
ঈষদুষ্ণ পানির পাশাপাশি আদা চা, চিকেন স্যুপ বা পাতলা খাবার খাওয়া যেতে পারে—তবে তা অবশ্যই সহনশীল তাপমাত্রায় হতে হবে।
ঠান্ডা লাগলে বা গলা ব্যথা হলে অতিরিক্ত গরম কিংবা অতিরিক্ত ঠান্ডা—যেকোনো চরম তাপমাত্রার পানীয়ই এড়িয়ে চলা উচিত। গলার টিস্যু সুরক্ষিত রেখে দ্রুত সুস্থ হতে সহনীয় মাত্রার ঈষদুষ্ণ পানি ও পুষ্টিকর তরল পান করাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।