সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের ৩ সঙ্কেত : অবহেলায় মহাবিপদ
হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক বর্তমানে বিশ্বের অকালমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। অনেকেই মনে করেন, বুকে তীব্র ব্যথা বা বাঁ হাত অবশ হয়ে যাওয়া ছাড়া বুঝি হার্ট অ্যাটাকের আর কোনো লক্ষণ থাকে না। কিন্তু গবেষকদের মতে, বড় ধরনের বিপদের বেশ কিছুদিন আগেই শরীর গোপনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত পাঠাতে শুরু করে। সচেতনতার অভাবে আমরা প্রায়শই এগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি বা বয়স বাড়ার প্রভাব ভেবে এড়িয়ে যাই।
হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ার ৩টি প্রধান নিঃশব্দ সঙ্কেত সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো-
পুরুষদের যৌন দুর্বলতা: রক্তনালি সরু হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি প্রথম ধরা পড়ে শরীরের ছোট ধমনীগুলোতে। ফলে পুরুষদের ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই যৌন দুর্বলতা দেখা দিলে তা হৃৎপিণ্ডের মূল ধমনীতে সমস্যা তৈরির আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মূল হৃদরোগ প্রকাশ পাওয়ার প্রায় পাঁচ বছর আগেই এই উপসর্গটি দেখা দেয়।
সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা: অল্প হাঁটাচলা বা কয়েকটি সিঁড়ি ভাঙতেই দম আটকে আসা মোটেও স্বাভাবিক ক্লান্তি নয়। চিকিৎসার ভাষায় একে 'ডিসপনিয়া' বলা হয়। এটি প্রমাণ করে যে, হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে রক্ত পাম্প করতে পারছে না।
পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া: দীর্ঘক্ষণ ভ্রমণ না করা সত্ত্বেও পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতায় ক্রমাগত জল জমা ও ফোলা ভাব বিপদজনক। রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো না হলে পা ও নিচের অংশে জল জমতে শুরু করে, যা মূলত 'হার্ট ফেলিয়র' বা কিডনির জটিলতার লক্ষণ।
চিকিৎসকদের পরামর্শ : ফোলা ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও অল্পতেই শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত ইসিজি (ECG), ইকো (ECHO) বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। সময়মতো লক্ষণ চিনতে পেরে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে বড় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।