ভারতের ৮৭ ভাগ মানুষের লিপিড প্রোফাইল অস্বাভাবিক

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৪ এএম
Main News Image

ভারতের বেশিরভাগ মানুষই 'ডিসলিপিডেমিয়া' সমস্যায় ভুগছেন। এর অর্থ হলো, রক্তে অস্বাস্থ্যকর ফ্যাটের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ দেখতে মানুষের শরীরেও উচ্চ কোলেস্টেরল পাওয়া যাচ্ছে।

গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ

ICMR-INDIAB দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ২৩,৬৬৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর এই সমীক্ষা চালায়।

প্রায় ৩৫.৫ কোটি ভারতীয়র রক্তচাপ, রক্তের শর্করা এবং ওজন স্বাভাবিক রয়েছে। অথচ এই বিশাল সংখ্যক মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক বেশি।

৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সিদের মধ্যে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে ডিসলিপিডেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। প্রতি ৩ জনের মধ্যে ২ জনের রক্তে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কম এবং ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি। শহর অঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এই হাই কোলেস্টেরলের সমস্যা সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

ডিসলিপিডেমিয়া কী এবং কেন হয়?

রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) ও ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যাওয়া এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কমে যাওয়াকে ডিসলিপিডেমিয়া বলে। এই সমস্যার কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং রক্তনালির জটিলতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ভারতীয়দের খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট থাকার কারণে এটি মূলত হচ্ছে।

অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়ায় এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ওজন স্বাভাবিক থাকার পরেও জিনগত বা বংশগত কারণে কোলেস্টেরল বাড়তে পারে। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ও অলস জীবনযাপনও এই রোগের জন্য দায়ী।

এই রোগের লক্ষণসমূহ: ডিসলিপিডেমিয়ার কোনো স্পষ্ট বাহ্যিক উপসর্গ বা লক্ষণ থাকে না। এটি রক্তনালির ভেতরে নিঃশব্দে বছরের পর বছর ধরে চর্বি জমাতে থাকে। কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই এটি হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে। কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত হাঁটলে পায়ে টান লাগা বা অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

রোগ প্রতিরোধের উপায় : কোনো রোগ ধরা পড়ার অপেক্ষা না করে ৩০ বছর বয়সের পর থেকেই নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করানো উচিত। খাদ্যতালিকা থেকে রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, প্রসেসড ফুড এবং ট্রান্স ফ্যাট পুরোপুরি বাদ দিন। প্রতিদিনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল এবং ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার রাখুন।

খাবারের থালার অর্ধেক অংশ সবজি ও ফল, চারভাগের একভাগ প্রোটিন এবং বাকি চারভাগের একভাগ জটিল কার্বোহাইড্রেট দিয়ে সাজান। শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট এমন ব্যায়াম করুন যাতে শরীর ঘামে এবং হার্টবিট বাড়ে।