আদর্শ ও বাস্তবতার সংঘাত: সৃজিতের ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
Main News Image

ব্রাত্য বসুর জনপ্রিয় নাটক অবলম্বনে নির্মিত সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন চলচ্চিত্র ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ শুধুই রাজনৈতিক সমীকরণের গল্প নয়; এটি সময়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, বিশ্বাস ও পারিবারিক বন্ধনের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক রূপলেখা।

ছবির মূল চরিত্র সব্যসাচী সেন (ঋত্বিক চক্রবর্তী) বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী এক ব্যক্তি, যে ১৯৭৬ সালের সময়ে থমকে থাকা অবস্থান থেকে দীর্ঘ ২৬ বছর ঘুমিয়ে থাকার পর ২০০২ সালে জেগে ওঠে। কিন্তু দীর্ঘ এই অনুপস্থিতিতে পাল্টে গেছে কলকাতা, বদলে গেছে সমাজ, রাজনীতি এবং তাঁর নিজস্ব পরিবারও। নিজের চেনা শহর ও সময়েই তিনি যেন একজন বহিরাগত। ঋত্বিক চক্রবর্তী অত্যন্ত সংযত অভিনয়ে এই বিস্ময়, অভিমান ও অসহায়তাকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

সব্যসাচীর সবচেয়ে বড় সংঘাত তৈরি হয় তাঁর ছেলে ইন্দ্রর (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়) সঙ্গে। ইন্দ্র বদলে যাওয়া রাজনীতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এক বাস্তববাদী চরিত্র, অন্যদিকে সব্যসাচীর কাছে রাজনীতি মানেই আপসহীন আদর্শ। এই দুই ভিন্ন প্রজন্মের আদর্শগত ও বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গির দ্বন্দ্ব ছবিটির মূল ভিত্তি।

ছবির অন্যান্য চরিত্রে কম বয়সের রাজলক্ষ্মী রূপে সোহিনী সরকার এবং প্রবীণ রাজলক্ষ্মীর ভূমিকায় অনসূয়া মজুমদারের উপস্থিতি একই জীবনের দুই ভিন্ন অধ্যায়কে দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলে। পাশাপাশি সত্রাজিৎ সরকার ও দেবেশ চট্টোপাধ্যায় নিজ নিজ চরিত্রে উপযুক্ত সঙ্গ দিয়েছেন।

পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় নাটকের সংলাপ নির্ভরতার সাথে সিনেমার দৃশ্যভাষার সুন্দর সমন্বয় ঘটিয়েছেন। গান ও আবহ সংগীত নাটকীয়তাকে বাড়িয়ে তুলেছে। তবে ভারী রাজনৈতিক সংলাপ ও বক্তব্যধর্মী দৃশ্যের কারণে কোথাও কোথাও গল্পের গতি কিছুটা মন্থর মনে হতে পারে। তবুও আদর্শের লড়াই বনাম বাস্তবতার টানাপোড়েনে দাঁড়িয়ে থাকা এই ছবি দর্শককে গভীর ভাবনার খোরাক দেয়।