যৌন আবেদনপ্রধান সিনেমায় ক্যারিয়ার শেষ বিপাশার!
বিপাশা বসু। ছবি: সংগৃহীত
২০০৩ সালে বলিউডে সফলতার চূড়ায় থাকা অবস্থায় বিপাশা বসুকে তাঁর ম্যানেজার ও ইন্ডাস্ট্রির শুভাকাঙ্ক্ষীরা সতর্ক করে বলেছিলেন—‘ইরোটিকা’ বা যৌন আবেদনপ্রধান সিনেমায় অভিনয় করলে তাঁর ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। ‘রাজ’ ও ‘আজনবী’র মতো হিট সিনেমার পর প্রচলিত নিরাপদ ভাবমূর্তি ছেড়ে এমন ঝুঁকি নেওয়াকে সবাই পাগলামি মনে করেছিলেন। তবে সব বারণ পেছনে ফেলে প্রাপ্তবয়স্কদের থ্রিলার ‘জিসম’-এ সোনিয়া চরিত্রে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নেন বিপাশা। পরবর্তীতে তাঁর এই সিদ্ধান্তই হিন্দি সিনেমায় নারী চরিত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
বিপাশার সিদ্ধান্তের কারণ
ঝুঁকিপূর্ণ চরিত্র নির্বাচন: অমিত সাক্সেনা পরিচালিত ও মহেশ ভাট রচিত এই সিনেমায় সোনিয়া ছিল এক জটিল, প্রলোভনময়ী ও হিসাবি নারী চরিত্র। প্রচলিত 'আদর্শ নায়িকা'র ছক ভেঙে এক নেতিবাচক ও বিপজ্জনক চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
সাফল্য ও নতুন ট্রেন্ড: সব আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করে সিনেমাটি বক্স অফিসে তুমুল সাফল্য পায়। এর পাশাপাশি সমুদ্রে বিপাশার লুক, ব্রোঞ্জ মেকআপ, চুলের স্টাইল ও সাদা পোশাক তখনকার সময়ে তরুণীদের মধ্যে ফ্যাশন ট্রেন্ড তৈরি করে।
পর্দার ভাবমূর্তি পরিবর্তন: ‘জিসম’ কেবল বিপাশাকে সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী অভিনেত্রী হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেনি, বরং মূলধারার সিনেমায় নারীর ধূসর (Grey) চরিত্র গ্রহণের সাহস জোগায়।
সামাজিক রক্ষণশীলতার যুগে নিজের ইমেজ ভাঙার যে ঝুঁকি বিপাশা নিয়েছিলেন, তা কেবল তাঁর ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলায়নি; বলিউডে নারী চরিত্রের সামাজিক ও নান্দনিক দৃষ্টিকোণকেও বদলে দিয়েছিল।