বলিপাড়ার দ্বিচারিতা নিয়ে সরব তাপসী পান্নু
নতুন ছবি ‘গান্ধারী’র প্রচারের মঞ্চে বলিউড ইন্ডাস্ট্রির পুরুষ এবং নারীপ্রধান ছবির অসম প্রতিযোগিতা ও ভিন্ন মাপকাঠি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী তাপসী পান্নু। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, পুরুষকেন্দ্রিক বড় বাজেটের ছবি সহজেই ছাড় পেলেও, নারীকেন্দ্রিক ছবির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী ও দর্শকের প্রত্যাশা এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা হয়।
‘আলফা’র ব্যর্থতার প্রভাব ও অতিরিক্ত চাপ
তাপসী জানান, সম্প্রতি আলিয়া ভাট অভিনীত বড় বাজেটের নারীকেন্দ্রিক ছবি ‘আলফা’র আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ার প্রভাব তাঁর নিজের ছবি ‘গান্ধারী’র ওপরও পড়েছে। তাঁর মতে, কোনো নারী অভিনেত্রীকে কেন্দ্র করে যখনই বড় বাজেটের অ্যাকশন ছবি তৈরি হয়, তখনই সেটির সাফল্য ও খুঁটিনাটি নিয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন তোলা শুরু হয়। কোনো নারীপ্রধান ছবিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হলে সেটিকে প্রায় নিখুঁত হতেই হবে—এমন একটি অলিখিত নিয়ম ধরে নেওয়া হয়।
পুরুষ বনাম নারীপ্রধান ছবির বৈষম্য
পুরুষকেন্দ্রিক বড় বাজেটের ছবির সঙ্গে তুলনা টেনে তাপসী প্রশ্ন তোলেন, পুরুষপ্রধান ছবিতে এত টাকা বিনিয়োগ করা হলেও সেগুলির গল্পে কি সব সময় গভীরতা বা সূক্ষ্মতা থাকে? অনেক সময় তো শুধু নায়ককে বড় করে দেখানো এবং চোখধাঁধানো অ্যাকশন দৃশ্য ছাড়া তেমন কিছুই থাকে না। তাপসীর মতে, ইন্ডাস্ট্রির মাপকাঠি দুটি ভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা। পুরুষপ্রধান ছবি: কোনো ছবি ২০-র মধ্যে ১৫ নম্বর পাওয়ার মতো হলেও তা অনায়াসে চলে যায়। নারীপ্রধান ছবি: মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করা হলে প্রত্যাশা থাকে ১৯ বা ২০ নয়, দিতে হবে ২১।
অভিনেত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, পুরুষ অভিনেতাদের ব্যর্থতা সামলে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নারীপ্রধান ছবির ক্ষেত্রে ভুল করার সুযোগ কার্যত শূন্যের নিচে। আলিয়ার ‘আলফা’ ব্যবসায়িক দিক থেকে সফল না হওয়ায় অন্য নারীকেন্দ্রিক অ্যাকশন ছবিগুলোকেও এখন একই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে।