‘আমরা তথাকথিত স্বামী-স্ত্রী নই’

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ এএম
Main News Image

কারিনা কাপুর খান ও সাইফ আলি খান। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের কয়েক বছর পর বা সন্তান আসার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যায়। দৈনন্দিন দায়িত্ব ও সংসারের ব্যস্ততায় বহু দম্পতির জীবন থেকেই হারিয়ে যায় শুরুর দিকের রোমাঞ্চ আর গভীর বন্ধুত্ব। তবে এই প্রচলিত ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন বলিউড তারকা কারিনা কাপুর খান ও সাইফ আলি খান। বিয়ের ১৪ বছর পার করেও তাঁদের সম্পর্কের রসায়ন এখনও আগের মতোই সতেজ ও প্রাণবন্ত। নিজেদের তথাকথিত প্রাতিষ্ঠানিক ‘স্বামী-স্ত্রী’র বাঁধনে না বেঁধে, বন্ধু ও অনুরাগী হিসেবে পথ চলাতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তাঁরা।

কারিনা এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানান, তাঁরা আর দশটা সাধারণ স্বামী-স্ত্রীর মতো নন। সারাদিনের ব্যস্ততা বা ক্লান্তি শেষে বাড়ি ফিরে এক কাপ কফি কিংবা এক গ্লাস ওয়াইন খাওয়ার মুহূর্ত উপভোগ করতে তাঁর কোনো বাইরের বন্ধুর প্রয়োজন হয় না; সাইফই তাঁর প্রথম ও সেরা পছন্দ। তাঁদের সম্পর্কের মূল শক্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গভীর ভালোবাসা এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর অপরিসীম আনন্দ। কারিনার মতে, সাইফ তাঁর কাছে কেবল স্বামী নন, বরং এমন একজন মানুষ যাঁর সঙ্গে সময় কাটাতে তিনি আজও মুখিয়ে থাকেন—ঠিক যেমনটা থাকে প্রেম পর্বের দিনগুলোতে।

মনোবিদদের মতে, কারিনা ও সাইফের এই সমীকরণ একটি আদর্শ ও স্বাস্থ্যকর দাম্পত্যের লক্ষণ। কেবল দায়িত্ববোধ বা সামাজিক বাধ্যবাধকতা দিয়ে একটি সম্পর্ককে দীর্ঘদিন সজীব রাখা যায় না। দাম্পত্যে প্রেমের পাশাপাশি বন্ধুত্বের জায়গাটি অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। দিনে বা দিনশেষে সঙ্গীর কাছে মনের কথা বলার জন্য যখন আলাদা করে কোনো সুযোগ বা অজুহাত খুঁজতে হয় না, তখনই বোঝা যায় সম্পর্কের ভিত কতটা মজবুত।

দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের এই উন্মাদনা ও বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য মনোবিদরা কয়েকটি বিশেষ অভ্যাসের ওপর গুরুত্ব দিতে পরামর্শ দেন:

• পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধা: ভালোবাসার মূল ভিত্তি হলো সম্মান। একে অপরের মতামত, কাজ এবং ভাবনাকে শ্রদ্ধা জানানো সম্পর্কের গভীরতা বাড়ায়।

• বন্ধুত্ব বাঁচিয়ে রাখা: স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ের আড়ালে যেন শুরুর দিকের সেই সহজ বন্ধুত্ব হারিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

• নিজস্ব সময় বা স্পেস দেওয়া: একই ছাদের নিচে থাকার অর্থ এই নয় যে সার্বক্ষণিক একসঙ্গে থাকতে হবে। সম্পর্কের স্বাস্থ্যের জন্য সঙ্গীকে তাঁর ব্যক্তিগত সময় ও স্বাধীনতা দেওয়া প্রয়োজন।

• সংসারের বাইরের জগৎ: কথা বলার বিষয় যেন কেবল সংসারের হিসাব বা সন্তানের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ না থাকে। নিজেদের ভালো লাগা, স্বপ্ন ও জীবনের অন্যান্য দিক নিয়ে নিয়মিত গল্প করা উচিত।

• খোলামেলা যোগাযোগ: মতের অমিল বা দূরত্ব তৈরি হলেও কখনো যোগাযোগ বন্ধ করা উচিত নয়। যেকোনো সমস্যার সমাধানে কথা বলতে থাকা অত্যন্ত জরুরি।

• সন্তান আসার পরেও দাম্পত্যের যত্ন: মা-বাবা হওয়ার পর নিজেদের সম্পর্কের প্রতি অবহেলা দেখা যায় অনেকের মধ্যেই। তবে সন্তান লালন-পালনের পাশাপাশি দম্পতি হিসেবে একে অপরকে সময় দেওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সময়ের নিয়মে প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে স্বামী-স্ত্রী এবং পরবর্তীতে মা-বাবা—সম্পর্কের রূপ বদলালেও ভেতরের বন্ধুত্বটা রয়ে যাওয়া উচিত। কারিনা ও সাইফের দীর্ঘ ১৪ বছরের পথচলা প্রমাণ করে যে, সম্পর্কের নাম যাই হোক না কেন, ভিত্তি যদি হয় বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, তবে সময়ের সাথে সাথে সেই বাঁধন আরও নিরাপদ ও মজবুত হয়ে ওঠে।