ভালো ব্যবসা করলেও, যে কারণে যশের ‘টক্সিক’ সমালোচিত
চার বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং একাধিকবার মুক্তির তারিখ পেছানোর পর অবশেষে বড় পর্দায় এসেছে গীতু মোহনদাস পরিচালিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘টক্সিক’। কন্নড় তারকা যশকে ঘিরে বিপুল উদ্দীপনা এবং বক্স অফিসে ভালো ব্যবসার মাঝেও ছবিটি ঘিরে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মুক্তির আগে প্রচারণায় যে ধরনের আশা তৈরি করা হয়েছিল, পর্দার বাস্তবের সঙ্গে তার ফারাক নিয়েই এখন সিনেপাড়ায় আলোচনা তুঙ্গে।
ছবিটির অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল এর তারকাবহুল নারী চরিত্র। কিয়ারা আডবাণী, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া, রুক্মিণী বসন্ত এবং নয়নতারার মতো প্রথম সারির অভিনেত্রীদের উপস্থিতি এবং প্রচারের সময়ে তাঁদের দেওয়া গুরুত্ব দেখে ধারণা করা হয়েছিল, এটি কেবল যশের একচ্ছত্র আধিপত্য বা ‘ওয়ান ম্যান শো’ হবে না। তবে ছবি মুক্তির পর চিত্রটি বদলে যায়। সমালোচকদের মতে, একাধিক নামজাদা অভিনেত্রী থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ব্যক্তিগত সংকট বা স্বতন্ত্র যাত্রা পর্দায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চরিত্রগুলির উপস্থিতি মূল নায়ক যশের সম্পর্কের পরিধিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
‘টক্সিক’-এর মূল আলোচনা গড়ে উঠেছে এর অতি-পুরুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নায়কের তারকা-ভাবমূর্তি নিয়ে। অপরাধ, ক্ষমতা ও তীব্র সংঘাতের বিশাল আয়োজনে যশের তারকাসুলভ উপস্থিতি ছবিটিকে চালনা করলেও তা অন্যান্য চরিত্রের স্বাভাবিক বিকাশের জায়গা সংকুচিত করে দিয়েছে। হাঁটার ধরন থেকে শুরু করে সংলাপ শৈলী—সবকিছুতেই চরিত্রটির গভীরতার চেয়ে ‘স্টার যশ’-এর ‘ম্যাস’ ইমেজই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ছবির প্রচারে নারী চরিত্রদের স্বাধীনতা ও নারীবাদী ভাবনার কথা তুলে ধরা হলেও বাস্তবে তার সঠিক প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নারীদের শক্তিশালী ও স্বাধীন হিসেবে দেখানোর চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁদের আবেগ, সম্পর্ক ও সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত পুরুষ নায়কের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রচারণার সময়ে দেওয়া নারীর ক্ষমতায়নের বার্তা পর্দার উপস্থাপনার সঙ্গে মেলেনি।
এর পাশাপাশি, ছবিতে অতিরিক্ত অ্যাকশন দৃশ্যের দাপটে গল্পের মূল আবেগ হারিয়ে গেছে বলে মনে করছেন দর্শকরা। প্রতিনিয়ত গোলাগুলি, সংঘর্ষ এবং পাল্টা আক্রমণের চমক থাকলেও কাহিনীর আবেগঘন স্তরগুলি শেষ পর্যন্ত জোরালো রূপ পায়নি। ফলে বক্স অফিসে বাণিজ্যিকভাবে সফল হলেও চরিত্রায়ণ, গল্পের গঠন এবং অতি-পুরুষকেন্দ্রিকতার কারণে ‘টক্সিক’ ঘিরে সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না।