মধুবালার যে চাওয়া পূরণ হয়নি কখনো
বলিউডের সোনালী যুগের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র মধুবালা। তাঁর রূপ আর অভিনয়ের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছিল সমগ্র দেশ। রূপালী পর্দায় সাফল্য তাঁর পায়ের নিচে লুটিয়ে পড়লেও, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বারবার খুঁজেছেন এক নিখাদ ভালোবাসার আশ্রয়। তবে প্রেম আর সম্পর্কের গল্পে এই অভিনেত্রীর ঝুলি রয়ে গেছে অপূর্ণতায় ভরা। কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমারের সঙ্গে তাঁর বহুল আলোচিত প্রেম যেমন পরিণতি পায়নি, তেমনই পরিচালক কমল আমরোহির সঙ্গে তাঁর অনুরাগের অধ্যায়টিও শেষ হয়েছিল চরম হতাশায়।
১৯৪৯ সালে কমল আমরোহি পরিচালিত কালজয়ী সিনেমা ‘মহল’-এর শুটিং চলাকালীনই পরিচালক ও অভিনেত্রীর মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তখন মধুবালা ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের স্থান তৈরি করছেন, অন্যদিকে কমল আমরোহি প্রতিষ্ঠিত পরিচালক। সম্পর্কের গভীরতা এতটাই ছিল যে, মধুবালা কমলকে নিয়ে একটি নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কমলের পূর্ববিবাহিত জীবন এবং সন্তান।
মধুবালা মন থেকে চেয়েছিলেন কমল যেন তাঁর প্রথম স্ত্রী সায়েদা ও সন্তানদের ছেড়ে তাঁকে বিয়ে করেন। কমলের প্রতি তাঁর ভালোবাসার টানে তিনি এমনকি প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ ভরণপোষণের সমস্ত আর্থিক দায়িত্ব তিনি নিজেই বহন করবেন। মধুবালার চাওয়া ছিল অত্যন্ত সাধারণ—প্রিয় মানুষটিকে নিজের করে পাওয়া। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন কমল যেন তাঁর পুরোনো সংসার থেকে সম্পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুনভাবে তাঁর সঙ্গে সংসার শুরু করেন।
মধুবালার এই গভীর চাওয়া শেষ পর্যন্ত অপূর্ণই থেকে যায়। কমল আমরোহি এই প্রস্তাবে রাজি হননি। নিজের পরিবার ও সন্তানদের ত্যাগ করতে অস্বীকার করে তিনি সসম্মানে সেই সম্পর্ক থেকে পিছিয়ে আসেন। কমলের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, তিনি নিজের প্রতিভা ও কাজ বিক্রি করেন, পরিবারকে নয়। এরপরই দুজনের পথ আলাদা হয়ে যায়। পরবর্তীতে কমল আমরোহি অভিনেত্রী মীনা কুমারীকে বিয়ে করলেও, মধুবালার জীবনে কমলের সাথে ঘর বাঁধার এই অধ্যায়টি অধরাই রয়ে যায়। বাহ্যিক গ্ল্যামার আর সাফল্যের আড়ালে মধুবালার এই অপূর্ণ চাওয়া আজও হিন্দি সিনেমা জগতের ইতিহাসের এক করুণ গল্প হিসেবে রয়ে গেছে।