৫০-এর দোরগোড়ায় গৌরী: স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের রহস্য কী
গৌরী প্রধান। ছবি : সংগৃহীত
একবিংশ শতাব্দী শুরু হওয়ার আগে থেকেই হিন্দি টেলিভিশন জগতের এক অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম গৌরী প্রধান। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে গ্ল্যামার দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে শুটিং ফ্লোরের কড়া আলো, ক্যামেরার ঝলকানি এবং ভারী মেকআপের জগতেই তাঁর দিনের অনেকটা সময় কেটেছে। পেশাগত কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রসাধনীর প্রলেপ মেখে থাকার ফলে ত্বকের উপর দিয়ে প্রচুর ধকল গিয়েছে।
বর্তমানে ৪৮ বছর বয়সি এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী বয়সের হাফ সেঞ্চুরি অর্থাৎ পঞ্চাশের কোঠা ছুঁতে চলেছেন। কিন্তু এই বয়সে এসেও তাঁর ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা হার মানাবে যেকোনো তরুণীকে। আশ্চর্যের বিষয় হল, ত্বকের এই তারুণ্য ধরে রাখতে গৌরী এখন আর কোনও বাজারচলতি নামীদামি প্রসাধনীর উপর বিন্দুমাত্র ভরসা করেন না। তাঁর মতে, আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে সুস্থ শরীরের ভেতরেই। তাই বাহ্যিক রূপচর্চার চেয়ে তিনি অনেক বেশি গুরুত্ব দেন নিজের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে।
গৌরীর রূপচর্চার মূল ৩টি মন্ত্র
গৌরীর এই স্বাস্থ্যোজ্জ্বল এবং দাগহীন ত্বকের রহস্য মূলত তিনটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের উপর দাঁড়িয়ে আছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই পদ্ধতিগুলি সম্পর্কে।
১. পুষ্টিকর ও সুষম ডায়েট (Healthy Diet) : ত্বকের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আমাদের প্রাত্যহিক খাদ্যাভ্যাসের এক অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। গৌরী বিশ্বাস করেন যে, আমরা সারাদিন যা খাই, তারই সরাসরি প্রতিফলন ঘটে আমাদের ত্বকে।
কী এড়িয়ে চলেন: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, মিষ্টি পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার (Processed Foods) ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের খাবার শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন সৃষ্টি করে, যা ত্বকের স্বাভাবিক কোলাজেন ভেঙে দেয় এবং বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে তোলে।
কী খান: ত্বকের কোষের স্বাভাবিক মেরামতি এবং পুষ্টির জন্য গৌরী তাঁর রোজকার খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে তাজা মরসুমি ফল, সবুজ শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর বাদাম, বীজ এবং উচ্চমানের প্রোটিন রাখেন। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলি থেকে শরীর পর্যাপ্ত ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণ করে।
২. নিয়মিত শারীরচর্চা (Regular Exercise) : সুস্থ ত্বক পাওয়ার ক্ষেত্রে শরীরচর্চার ভূমিকা অনস্বীকার্য। গৌরীর বিউটি রুটিনে স্বাস্থ্যকর ডায়েটের পাশাপাশি নিয়মিত ওয়ার্কআউট করার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্ব পায়।
রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি: চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরে রক্তসঞ্চালন দারুণভাবে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ত্বকের প্রতিটি কোষে পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি খুব সহজেই পৌঁছে যেতে পারে, যা ত্বককে সজীব রাখে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: দীর্ঘদিনের স্ট্রেস বা মানসিক চাপ ত্বকের উজ্জ্বলতা কেড়ে নিতে পারে এবং বলিরেখা সৃষ্টি করতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা করার ফলে মানসিক চাপ কমে, যা পরোক্ষভাবে ত্বককে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে।
৩. মুখের ব্যায়াম বা ফেস যোগা (Facial Exercises)
শুধু শরীরের নয়, বয়সের ছাপ রুখতে মুখের পেশিরও ব্যায়াম প্রয়োজন। ফেস যোগা বা মুখের ব্যায়াম এখন সৌন্দর্য সচেতন মানুষদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি।
পেশির নমনীয়তা: মুখের বিভিন্ন পেশিকে নির্দিষ্ট নিয়মে নাড়াচাড়া করার মাধ্যমে এই ব্যায়াম করা হয়। এটি মুখের পেশির নমনীয়তা ও রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে।
বয়সের ছাপ রোধ: নিয়মিত মুখের ব্যায়াম করলে বয়সের কারণে চামড়া ঝুলে পড়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়। এর ফলে ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই টানটান থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, গৌরী প্রধানের এই জীবনযাত্রা আমাদের সকলের জন্যই এক বড় শিক্ষণীয় বিষয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেবল দামি অ্যান্টি-এজিং ক্রিম বা সিরামের উপর নির্ভর না করে, যদি প্রাকৃতিক উপায়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শরীরচর্চার উপর জোর দেওয়া যায়, তবে যে কেউই দীর্ঘদিন নিজের যৌবন ও ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারবেন।