কোন ছবিকে ‘অপয়া’ মনে করতেন শ্রীদেবী?
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম কালজয়ী অভিনেত্রী শ্রীদেবী। যাঁর নাম উচ্চারিত হলেই আজও অনুরাগীদের মনে ভেসে ওঠে ‘হাওয়া হাওয়াই’ কিংবা ‘চাঁদনি’র সেই মোহময় রূপ। মৃত্যুর এত বছর পরেও তাঁর জীবন ও অভিনয় সফর নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। কেরিয়ারের যে সিনেমা তাঁকে রাতারাতি সাফল্য ও বিপুল পরিচিতি এনে দিয়েছিল, সেই ‘হিম্মতওয়ালা’ ছবিকেই একসময় নিজের জীবনের ‘অপয়া’ বা দুর্ভাগ্য বলে মনে করতেন তিনি।
ব্লকবাস্টার সাফল্য ও ‘হিম্মতওয়ালা’
১৯৮৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল শ্রীদেবী ও জিতেন্দ্র অভিনীত ছবি ‘হিম্মতওয়ালা’। মুক্তির পরপরই এটি বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য পায়। ছবির গান, শ্রীদেবীর নজরকাড়া পোশাক এবং তাঁর অসাধারণ নাচের শৈলী রাতারাতি তাঁকে হিন্দি সিনেমার শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রীদের তালিকায় বসিয়ে দেয়।
যে কারণে এই সাফল্যকে ‘অপয়া’ ভাবতেন শ্রীদেবী
‘শ্রীদেবী: কুইন অফ হার্টস’ বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল সাফল্য সত্ত্বেও ‘হিম্মতওয়ালা’ ছবিটিকে কেরিয়ারের জন্য কিছুটা দুর্ভাগ্যের কারণ মনে করতেন অভিনেত্রী। তাঁর মনে এক অদ্ভুত আশঙ্কার জন্ম হয়েছিল—ইন্ডাস্ট্রি ও দর্শক হয়তো তাঁকে কেবলই একজন সুন্দরী ও গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী হিসেবে দেখবে, আর তাঁর প্রকৃত অভিনয় দক্ষতা ঢাকা পড়ে যাবে আড়ালে।
ভয় ভেঙে বহুমুখী অভিনয়ের জয়
তবে শ্রীদেবীর এই আশঙ্কা শেষ পর্যন্ত অমূলক প্রমাণিত হয়। ‘হিম্মতওয়ালা’র পর আশির দশকে শ্রীদেবী নিজেকে একের পর এক বৈচিত্র্যময় চরিত্রে মেলে ধরেন। ‘তওফা’, ‘নাগিনা’, ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’, ‘চাঁদনি’, ‘চালবাজ’ এবং ‘লমহে’-র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় রূপালী পর্দায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ছবিতে অসাধারণ কমেডি টাইমিং কিংবা ‘হাওয়া হাওয়াই’ গানের আইকনিক অভিব্যক্তি দিয়ে তিনি প্রমাণ করে দেন, তিনি কেবল গ্ল্যামারের প্রতীক নন, বরং ভারতীয় সেলুলয়েডের এক অনন্য অভিনয়শিল্পী।