আজও অর্ধাঙ্গিনী’র সাতটি সত্য
কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের চলচ্চিত্র ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ চেনা সমাজ ও সম্পর্কের টানাপোড়েনকে নতুন করে দেখায়। বদলাতে থাকা পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে আলোকপাত করেছেন অভিনেত্রী রেশমী সেন। ছবির কেন্দ্রে আছেন সুমন চট্টোপাধ্যায়, তার প্রাক্তন স্ত্রী শুভ্রা ও বর্তমান স্ত্রী মেঘনা। এই তিনজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্পর্কের টানাপোড়েন আর জীবনযাপনের ত্রুটিবিচ্যুতি নিয়েই কাহিনি। সুমনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কৌশিক সেন, শুভ্রার ভূমিকায় চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ও মেঘনার চরিত্রে জয়া আহসান। প্রত্যেকেই দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। ছবিটির মূল ৭টি বিষয় হলো-
১. সম্পর্কের ভিত বন্ধুত্ব
সুমন, শুভ্রা ও মেঘনার সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে গল্পের মূল ভাব। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো বন্ধুত্ব। সম্পর্কের মাঝে অহংবোধ চলে এলে এবং বন্ধুত্ব ফিকে হলে জটিলতা শুরু হয়।
২. সত্যিকারের পাশে থাকা
প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত বন্ধুত্ব। ছবিতে বন্ধু রঞ্জন দায়িত্ব এড়িয়ে গেলেও প্রাক্তন দেওর সুকান্ত শুভ্রার পাশে থাকেন। বিচ্ছেদের পরেও মানবিক সম্পর্ক থেকে যেতে পারে, তা এই ছবিতে দেখানো হয়েছে।
৩. নারী স্বাধীনতা ও অধিকার
প্রতিটি নারীর স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার রয়েছে। সমাজে সব সময় নারীদের ভুলটাই বেশি করে দেখানো হয়। ভালবাসার নামে কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দিলে সম্পর্কে বিড়ম্বনা তৈরি হয়।
৪. অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা
শুভ্রা চরিত্রটি অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন। নারী নিজে স্বাবলম্বী হলে অন্যের ওপর নির্ভর না করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। নিজের প্রতিভার বিকাশ ঘটানো এবং অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
৫. নিজেকে ভালো রাখা
অধিকাংশ বিয়ে রূপকথার মতো শুরু হলেও গভীরে বন্ধুত্ব থাকে না। নিজে ভালো না থাকলে অন্যকে ভালো রাখা যায় না। নিজেকে ভালো রাখা ও মানসিকভাবে শান্ত রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
৬. ‘পূর্ণাঙ্গিনী’ নারী
‘অর্ধাঙ্গিনী’ কথাটি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ। নারী কারও 'অর্ধেক' নন, তিনি নিজে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ। এই ছবিতে নারীদের স্বকীয় পরিচয়ের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
৭. বিয়েই নারীর সম্পূর্ণতা নয়
বিয়ে হলেই একজন নারী সম্পূর্ণ হন— সমাজের এই ধারণাকে ছবিটি চ্যালেঞ্জ জানায়। নতুন পরিবারে মানিয়ে নেওয়ার লড়াই এবং বিবাহের প্রচলিত ধারণা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা এতে তুলে ধরা হয়েছে।