কনসার্ট-নৌকাবাইচে বাধার অভিযোগ, সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
Main News Image

বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও সিলেটে সম্প্রতি বেশ কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে বাধার অভিযোগ ওঠায় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৮ই আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনসে আয়োজিত একটি কনসার্টে হামলা ও সংঘর্ষ, ১৯শে আগস্ট কিশোরগঞ্জে স্থানীয় একটি পরিষদের স্মারকলিপির পর ব্যান্ডের কনসার্ট স্থগিত করা এবং সিলেটের বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ আয়োজনে একটি গোষ্ঠীর বাধার চেষ্টা সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের আপত্তির কথা উঠে এসেছে, যা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পালনে নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠছে।

সংসদে এসব ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ক্ষোভ ও বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে তিনি বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ফেসবুকে নিজস্ব অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সকল ধর্ম ও মতের সহাবস্থানের মাধ্যমে একটি সুষম বাংলাদেশ গড়ে তোলাই কাম্য, যেখানে কনসার্ট, ওয়াজ, রথযাত্রা কিংবা সিনেমা উৎসব—সবকিছুরই পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা উচিত এবং কারো অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয় তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এলাকার সংবেদনশীলতা ও পরিবেশ বিবেচনায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থসহ সরকারের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু আয়োজন স্থগিতের ঘটনাকে সরকারের সংস্কৃতিবিরোধী অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তবে সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিশ্লেষকরা কর্তৃপক্ষের ভূমিকাকে যথেষ্ট বলে মনে করছেন না। গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়েজীদের মতে, ধারাবাহিক বাধা প্রদান ও সরকারের নীরবতার কারণে দেশজুড়ে সংস্কৃতিসেবীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একইভাবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, ধর্মীয় আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীগুলোর হুমকি ও আক্রমণের ফলে সমাজে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। এই মনস্তাত্ত্বিক ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে সরকারকে অবিলম্বে দৃশ্যমান ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে সবাই নিজ নিজ সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে পারে।

সংবাদ সূত্র : বিবিসি বাংলা