ক্ষমতার খেলা
জীবন সব সময় মনের মতো হবে না, হওয়া সম্ভবও নয়। এটাই বাস্তবতা এবং এটাই সত্য। চারদিকে এখন ঘৃণার চাষ, বিদ্বেষের পরিচর্যা। মনে হয়, সবাই অন্যের অপরাধের বিচারক, নিজেরটা বাদে।
আমি চাই, আমাকে নিয়ে সবাই বিতর্ক করুক, আমার চিন্তা নিয়ে তর্ক করুক, আমাকে ভুল প্রমাণের চেষ্টা করুক। আমি সাহিত্যের একজন ভদ্র নাগরিক; বলতে পারেন, ব্রাত্য এবং সহজ। আমার দর্শন খুব পরিষ্কার। কোনো কিছুকে আমি চূড়ান্ত সত্য কিংবা চূড়ান্ত মিথ্যা বলে সিল মেরে দিই না। মার্ক টোয়েন খুব সুন্দর একটা কথা বলেছেন, “স্বাস্থ্যবিষয়ক বই পড়ার সময় খুব সাবধান, কারণ একটা ছাপার ভুলের কারণে একজন মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।” আমরা পেয়ে হারাই, আবার হারিয়ে খুঁজি। কী অদ্ভুত, তাই না? ভাষার ধার যার যতই থাকুক না কেন, তা প্রতিহত করার যোগ্যতা আমি রাখি। অনেক কথা জানা সত্ত্বেও আমি চুপ থাকি। জানি, কাজটা কঠিন; তারপরও আমি চুপ থাকি। যদিও চুপ থাকাতেও একটা ফাঁকি আছে, তারপরও আমি চুপ থাকি। কেননা, আমি জানি, চুপ থাকাটাও একধরনের ক্ষমতার খেলা।
আমি জানি, ভুল নিষ্পত্তির অধিকার আমার নেই। আমার অনেক কথা বলার থাকলেও আমি বলি না। আবার কিছু কথা বলার আগেই ভাবি, বলা ঠিক হবে কি না। শেষ কথাটা বলার লোভ সবারই থাকে, আমারও আছে। তবে আমি ভেবে বলি, বলাটা ঠিক হবে কি না।
যে কাজ করলে আনন্দ পাওয়া যায়, তেমন কাজই আসলে করা উচিত। তবে এখনকার সময় আর আগের মতো পারস্পরিক আন্তরিকতায় কাটে না। মানুষের চেয়ে মানুষের দেওয়া দুঃখের স্থায়িত্বই এখন বেশি। মানুষের নাম যা-ই হোক না কেন, তা অপ্রাসঙ্গিক। কেননা, মানুষ আসলেই কৌশলী প্রাণী; মানুষ কেবল বিন্যাসেই প্রাণী। আমরা কেউ কাউকে তো আর নিজের জন্য সংরক্ষণ করে রাখিনি। তাহলে এত আদিখ্যেতা কেন, বাপু?
শেষ কথাটা বলি, আমাদের জীবনটা হচ্ছে একটি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠের মতো দুটি অনিশ্চিত বিকল্প। আর নিজের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত জানলে ভবিষ্যৎ জানার দরকার কী? ভালোবাসা কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। এখানে হিসাব, চুক্তি, যুক্তি, সামাজিক শৃঙ্খলা, অযৌক্তিক আকাঙ্ক্ষা এসবই আছে। তারপরও মানুষ ভালোবাসা পেয়েও ভালোবাসার জন্য একটা আলাদা জায়গা খালি রাখে।