রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: বদলে যাবে জাতীয় অর্থনীতি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
Main News Image

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে চালুর আগে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদিত হওয়ায় পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে আগামী মাসেই এ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে।

প্রকল্পের গুরুত্ব ও জাতীয় অর্থন
উৎপাদন সক্ষমতা: দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে (প্রতিটি ইউনিট ১,২০০ মেগাওয়াট)।

চাহিদা পূরণ: এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করতে পারবে।

অর্থনৈতিক পরিবর্তন: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা: জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

বর্তমান অগ্রগতি ও পরবর্তী ধাপ ('ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি')
১. নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন: উচ্চ চাপে অগ্নিনিরাপত্তা, তেজস্ক্রিয়তা ও ভালভের দুই দফা পরীক্ষা সফল হওয়ায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এটি অনুমোদন করেছে।

২. ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি (First Criticality): পরবর্তী ধাপে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া (Chain Reaction) শুরু হবে। এই প্রক্রিয়ার পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষায় প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।

৩. জাতীয় গ্রিডে সংযোগ: প্রাথমিক পর্যায়ে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে, যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় রূপ নেওয়া হবে।


কারিগরি বৈশিষ্ট্য ও কার্যপদ্ধতি
প্রযুক্তি: রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই কেন্দ্রে ৩+ প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া: ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়ার ফিশনের মাধ্যমে উৎপন্ন তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

মেয়াদ ও রক্ষণাবেক্ষণ: কেন্দ্রটির স্থায়িত্বকাল ৬০ বছর (যা প্রয়োজনে আরও ২০-৩০ বছর বাড়ানো সম্ভব)। প্রায় দেড় বছর পর পর জ্বালানি পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে।

প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
সূচনা: ১৯৭৭ সালে ফরাসি প্রতিষ্ঠান ‘সফরাটম’ সমীক্ষা চালালেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের জ্বালানি নীতি এবং ২০০৫ ও ২০০৭ সালে চীনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তাবনা এগিয়ে যায়।

বর্তমান রূপ: রাশিয়ার সহায়তায় বর্তমান কাঠামোর কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা: ২০০৮ সাল থেকে বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারেও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল এবং ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতেও এই শক্তি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মতামত:
মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এটি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নয়, বরং এটি দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের এক বড় মাইলফলক। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রেখে কেন্দ্রটি দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে কাজ চলছে।