রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: বদলে যাবে জাতীয় অর্থনীতি
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে চালুর আগে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদিত হওয়ায় পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে আগামী মাসেই এ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে।
চাহিদা পূরণ: এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করতে পারবে।
অর্থনৈতিক পরিবর্তন: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা: জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
২. ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি (First Criticality): পরবর্তী ধাপে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া (Chain Reaction) শুরু হবে। এই প্রক্রিয়ার পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষায় প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।
৩. জাতীয় গ্রিডে সংযোগ: প্রাথমিক পর্যায়ে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে, যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় রূপ নেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া: ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়ার ফিশনের মাধ্যমে উৎপন্ন তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
মেয়াদ ও রক্ষণাবেক্ষণ: কেন্দ্রটির স্থায়িত্বকাল ৬০ বছর (যা প্রয়োজনে আরও ২০-৩০ বছর বাড়ানো সম্ভব)। প্রায় দেড় বছর পর পর জ্বালানি পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে।
বর্তমান রূপ: রাশিয়ার সহায়তায় বর্তমান কাঠামোর কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা: ২০০৮ সাল থেকে বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারেও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল এবং ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতেও এই শক্তি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।