সেই দেশ, এই দেশ (চতুর্থ পর্ব)
আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন আসন্ন, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘মিডটার্ম ইলেকশন’। এই ‘মিডটার্ম ইলেকশন’ কী? আমাদের অনেকেই তা জানি না। মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া কংগ্রেস সদস্য, সিনেটর ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের পদে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এ সময়।
কেবল বাংলাদেশেই নোংরা নির্বাচনী রাজনীতির চর্চা হয়, এমনটি কিন্তু নয়। এখানেও হয়; বরং অনেক সময় অতিমাত্রায় হয়। অভিবাসী, কৃষ্ণাঙ্গ কিংবা মুসলমান পরিচয়ও এখানে অনেক সময় কাল হয়ে দাঁড়ায়।
বারাক ওবামার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছিল। নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর বিরুদ্ধে দাবি করা হয়েছিল, তিনি এ দেশে জন্মগ্রহণ করেননি এবং তিনি কেনিয়ার নাগরিক। অথচ এ দেশে জন্মগ্রহণ না করলে কোনো ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না; প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে হলে জন্মসূত্রে এ দেশের নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। পরবর্তী সময়ে ওবামাকে তাঁর জন্মস্থান ও হাসপাতালের তথ্য এবং জন্মসনদ প্রকাশ করে প্রমাণ করতে হয়েছিল যে তিনি এ দেশেই জন্মগ্রহণ করেছেন।
অনেক সিনেটর পদপ্রার্থীকে ‘মুসলমান’ তকমা দিয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার কথাও শোনা যায়। নির্বাচনের পরে, এমনকি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও, যৌন হয়রানির অভিযোগে অধিকাংশ নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে আদালতে যেতে হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে শপথ ভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়।
যা বলছিলাম, আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন মূলত কংগ্রেস বা আইনসভার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণের লড়াই। আমেরিকার কংগ্রেসের দুটি কক্ষ রয়েছে: একটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ, অন্যটি সিনেট। এই দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লড়াইই মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল বিষয়।
এবারের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি খুব ভালো অবস্থানে নেই। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ, ইয়েমেনের হুতি ইস্যু, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে আমেরিকানরা ভেতরে ভেতরে ভীষণ ক্ষুব্ধ।
যা-ই হোক, নিম্নকক্ষের নির্বাচনী লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন বলে আপাতত মনে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে নিজের ইচ্ছেমতো কোনো বিল পাস করানো কঠিন হবে। কেননা, ডেমোক্র্যাটদের সম্মতি ছাড়া তাঁর আইন প্রণয়নের এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশেও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ থাকা উচিত, যাতে সরকার চাইলেই একক সিদ্ধান্তে কোনো আইন পাস কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে না পারে। রাজনীতির ভাষায় একেই বলা হয় ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালান্সেস’, অর্থাৎ ক্ষমতার পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য।