ওএমআর শিট দেওয়ার পর পরীক্ষা বাতিল, ফের পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী এ পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান।
এদিকে, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ওএমআর শিট দেওয়ার পর পরীক্ষা বাতিল
শনিবার সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চাকরিপ্রার্থীরা ঢাকায় আসেন। তবে পরীক্ষাকেন্দ্রে ওএমআর শিট বিতরণের প্রায় দুই মিনিট পর পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
হঠাৎ পরীক্ষা বাতিলের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরীক্ষার্থীরা। মতিঝিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সাত মসজিদ রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রস্তুতি নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় এসে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিলের খবর পাওয়ায় তাঁরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যাতায়াত, থাকা ও খাবারের পেছনে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কেউ কেউ ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছেন।
পরীক্ষার আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে প্রকৃত প্রশ্নপত্রের কিছু অংশের মিল পাওয়া যায়। এ কারণে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রশ্নপত্র কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
২৪২ পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ আবেদন
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদটি ১১তম গ্রেডের। ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছেন। সে হিসাবে প্রতি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ১ হাজার ২৪০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সরকারি চাকরির সীমিত সুযোগের কারণে এ নিয়োগ পরীক্ষা প্রার্থীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নিতে আগাম প্রস্তুতির পাশাপাশি যাতায়াত ও আবাসনের জন্য অর্থ ব্যয় করেছেন। ফলে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
নতুন তারিখ ঘোষণার পর প্রার্থীদের আবারও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে আগের পরীক্ষার জন্য যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবকে।
কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন যুগ্ম সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের একজন পরিচালক। অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন অধিশাখা) কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তদন্ত করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।