ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি, ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফেরাতে চায় বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
Main News Image

২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বর্তমান গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভারতের সঙ্গে নতুন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনর্বহাল করাকে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন চুক্তি করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিয়মিত কাজ করছে। আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতে ১২ ডিসেম্বরের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রথমবার পাঁচ বছরের জন্য গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি করা হয়েছিল, যেখানে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। পরে ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে ওই ধারা রাখা হয়নি। নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশ ওই গ্যারান্টি ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়।

পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান হবে ২০২৭ সালে

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প। দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এসব প্রকল্পের সুফল পেতে পারে।

মন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারাজের স্টাডি শেষ করতে ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার প্রকল্পটি চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

২০২৭ সালে তিস্তা প্রকল্পের মূল কাজ শুরুর লক্ষ্য

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হবে বলে জানান এ্যানি। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করে একই বছরে প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

তিস্তা নদীর উজান থেকে পানিপ্রবাহ এবং ভাটির মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

পদ্মা ও তিস্তা প্রকল্পে বিদেশি কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নদীর তীরবর্তী মানুষের স্বার্থই সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।