স্বরূপ-যুগের অবসানের পর টলিপাড়ায় প্রথম নির্বাচন: কড়া নজরদারি মিঠুনের

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩২ এএম
Main News Image

স্বরূপ বিশ্বাসের আধিপত্য শেষ হওয়ার পর অবশেষে টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে ফেডারেশনের নির্বাচন। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আজ শনিবার বিভিন্ন স্টুডিওর বাইরে ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী।

সাধারণত শনি ও রবিবার টলিপাড়ায় শুটিং বন্ধ থাকে। আর এই ছুটির দিনগুলোকেই বেছে নেওয়া হয়েছে বাংলা সিনেপাড়ার নির্বাচনের জন্য। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টলিউডের সমীকরণ এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। ফেডারেশনের আওতাধীন মোট ২৬টি গিল্ডের এই নির্বাচনে নতুন সভাপতি কে হবেন, সে দিকেই এখন সবার নজর। শোনা যাচ্ছে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী প্রার্থীদের এই দুই দিনের মধ্যেই শংসাপত্র প্রদান করা হবে।

আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। টেকনিশিয়ানস স্টুডিও ও এনটি ওয়ান স্টুডিওর বাইরে গিয়ে সমস্ত পরিস্থিতি নিজে ঘুরে দেখেন মিঠুন চক্রবর্তী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষও।

এবারের নির্বাচনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ভোটার, প্রার্থী ও কমিশনার ছাড়া অন্য কাউকে ভোটকেন্দ্র বা স্টুডিওর ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তার খাতিরে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পরিদর্শনে এসে মিঠুন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, “ভোটার ছাড়া কেউ ভেতরে ঢুকতে পারবেন না— এই নিয়মটা আমিই করেছি। নিয়ম রক্ষার খাতিরে আমি নিজেও বাইরে বসে আছি। আগে যেখানে শুধু ‘সিলেকশন’ বা একপাক্ষিক বাছাবাছি হতো, এবার সেখানে সবাই সুস্থ পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন। আমি এটাই চেয়েছিলাম। আগামী দিনে ফেডারেশন গঠিত হলেও তা সুস্থভাবে পরিচালিত হবে। ‘কাউকে কাজ করতে দেব না’— এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা এখানে আর চলবে না। কেউ যদি এমন করার চেষ্টা করেন এবং আমার কানে আসে, তবে আমি নিজে ব্যবস্থা নেব।”

মুম্বইয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি ৩০ বছর বম্বেতে মজদুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলাম। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে টলিউডের এই অঙ্গনটিকে নতুন করে সাজাতে চাই। কলাকুশলীদের কার কী দুঃখ বা সমস্যা আছে, আমি তার সমাধান করতে চাই।”

টলিউডে বহুল আলোচিত ‘ব্যান কালচার’ বা নিষিদ্ধ করার সংস্কৃতি প্রসঙ্গে মিঠুন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই সমস্ত সংস্কৃতি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। গণতন্ত্রে কারও কাজ করার অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। যে যার ইচ্ছামতো এবং যার সঙ্গে সুবিধাজনক মনে হবে, তার সঙ্গেই কাজ করবে।” কেউ কোনো রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

উল্লেখ্য, কাজের পরিধির বাইরেও নানা বিতর্ক ও নেতিবাচক খবরের কারণে প্রায়ই আলোচনায় থাকে টলিউড। বিগত কয়েক বছর ধরে ফেডারেশন বনাম ছোটপর্দার প্রযোজকদের দ্বন্দ্ব, কলাকুশলীদের অসহযোগিতা, পারিশ্রমিক বকেয়া থাকা, অতিরিক্ত সময় কাজ করানো এবং ‘হুমকি বা ব্যান কালচার’-এর মতো নানা অভিযোগে উত্তপ্ত ছিল টলিপাড়া।