পুতিনের কাছে ট্রাম্পের ‘আত্মসমর্পণ’! রাশিয়া ও ভারতের ওপর শুল্ক ছাড়ে আমেরিকায় তীব্র রাজনৈতিক ঝড়

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪ এএম
Main News Image

রাশিয়ার ওপর প্রস্তাবিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং রুশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে শেষ মুহূর্তে পিছু হটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় স্বার্থের অজুহাতে 'লিন্ডসে ও গ্র্যাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬' আইনের আওতাধীন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক মকুব ঘোষণা করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আকস্মিক পদক্ষেপে ভারত ও চীন বড় ধরনের শুল্ক শঙ্কা থেকে সাময়িক স্বস্তি পেলেও আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তা নিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাট থেকে শুরু করে ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান—দুই শিবিরের আইনপ্রণেতারাই এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনপ্রণেতাদের একাংশের দাবি, এর মাধ্যমে ট্রাম্প বস্তুত রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে 'আত্মসমর্পণ' করেছেন। এমনকি তাঁকে ‘পুতিনের হাতের পুতুল’ বলেও কটাক্ষ করছেন অনেকে।

পটভূমি ও ভারতের স্বস্তি
গত মাসে 'লিন্ডসে ও গ্র্যাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬' বিলে স্বাক্ষর করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মূলত ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার আয়ের উৎস বন্ধ করা এবং রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করাই ছিল এই আইনের মূল লক্ষ্য। আইনটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ খনিজ তেল ও গ্যাস আমদানিকারী দেশ হিসেবে ভারত ও চীন চরম অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়ত। কিন্তু বিলটি পূর্ণাঙ্গ কার্যকর হওয়ার আগের দিনই ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা মকুব করায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে নয়াদিল্লি ও বেইজিং।

চুক্তির বিষয়বস্তু ও ট্রাম্পের যুক্তি
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পেছনে রয়েছে মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি সাম্প্রতিক ‘ডিজেল চুক্তি’। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প জানান, রাশিয়া আমেরিকা ও বিশ্ববাজারে অবিলম্বে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। পরবর্তীতে নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং তার পর অতিরিক্ত ১০ লাখ টন জ্বালানি সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মস্কো। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও জাতীয় স্বার্থেই এই সমঝোতা ও শুল্ক ছাড় জরুরি ছিল।

মার্কিন রাজনীতিতে ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া
নিষেধাজ্ঞা মকুব ও ডিজেল চুক্তির খবরের পর মার্কিন আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন:

রিচার্ড ব্লুমেন্থাল (ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর): বিলটি তৈরিতে ভূমিকা রাখা এই সেনেটর ট্রাম্পের পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই ছাড়ের সঙ্গে আমেরিকান জাতীয় নিরাপত্তার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি কেবলই পুতিনকে তোষামোদ করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকান জনগণ ও ইউরোপীয় সহযোগীদের দিকে পিছন ফিরে পুতিনের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।”

ডন বায়ার (ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি): তিনি এই সিদ্ধান্তকে কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্য লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে বলেন, “আগ্রাসনী যুদ্ধের শাস্তি হিসেবে আইনটি করা হয়েছিল, কিন্তু এটি ট্রাম্পের আরও একটি নতিস্বীকার।”

গ্যাভিন নিউসাম (ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর): ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “মনে হচ্ছে কেউ একজন পুতিনের কাছ থেকে সুবিধা পাচ্ছেন।”

টেরেসা লেজার ফার্নান্ডেজ় (ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি): তিনি সরাসরি ট্রাম্পকে ‘পুতিনের হাতের পুতুল’ বলে অভিহিত করেছেন।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষের প্রতিনিধিদের মতে, রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির এই চুক্তি বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কোনো ভূমিকা রাখবে না, বরং এটি ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পুতিনকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করবে।

অন্য কোনো নির্দিষ্ট আঙ্গিকে বা ভিন্ন ফরম্যাটে এই প্রতিবেদন সাজিয়ে নিতে চাইলে জানাতে পারেন!