নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল বিজয়: আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের প্রতি স্বীকৃতি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
Main News Image

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত আইনজীবী ও বিচারক নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এক ঘোষণায় জানায়, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও শান্তি রক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাইকে এ বছর শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়েছে।

পুরস্কার পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নাভি পিল্লাই কিছুটা রসিকতা করেই বলেন, “আপনারা যদি আরেকটু জোরে তালি দেন, তাহলে আমি এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।”

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলের নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো। তিনি পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে গিয়ে নিজের নোবেল মেডেলটি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার দেন। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এসে একাধিক যুদ্ধ বন্ধ করেছেন তাই নোবেল শান্তি পুরস্কারের আসল দাবিদার তিনি নিজেই। নাভি পিল্লাই মূলত মাচাদো ও ট্রাম্পের সেই ঘটনাকেই হালকা খোঁচা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রাম থেকে আন্তর্জাতিক আদালত

নাভি পিল্লাইয়ের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানের এক তামিল পরিবারে। দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন চরম বর্ণবাদ বিদ্যমান ছিল, তখন থেকেই তিনি বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেন। একসময় তিনি বর্ণবাদবিরোধী নেতা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন। মহাত্মা গান্ধীর কর্মভূমি নাটাল প্রদেশের নাটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে ১৯৬৭ সালে তিনি সেখানে নিজের ল’ফার্ম খোলেন—যা ছিল তৎকালীন নাটাল প্রদেশের কোনো নারীর তৈরি করা প্রথম ল’ফার্ম। তিনিই ছিলেন ওই প্রদেশের প্রথম নারী আইনজীবী। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ল’ স্কুল থেকেও ডিগ্রি অর্জন করেন।

ইতিহাস সৃষ্টিকারী রায় ও আন্তর্জাতিক অবদান
যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচারে বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নাভি পিল্লাই। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং রোয়ান্ডা বিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটিআর) বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৫ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত রোয়ান্ডা বিষয়ক ট্রাইব্যুনালে বিচারক থাকার সময় তিনি এক যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। সেই রায়ে তিনি যুদ্ধকালীন ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে ‘গণহত্যার’ (Genocide) অংশ হিসেবে ঘোষণা করেন। আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে নারী অধিকার রক্ষায় এই রায়কে অন্যতম প্রধান মাইলফলক বলে মনে করা হয়। পরবর্তীতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো নির্যাতনের মামলার বিচারেও তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন।