কাজের ফাঁকেই ১০ হাজার পা: এক ঢিলে দুই পাখি মারার সহজ উপায়

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ এএম
আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২১ এএম
Main News Image

ব্যস্ত দিনপঞ্জি, টানা কয়েক ঘণ্টা চেয়ারে বসে অফিসের কাজ এবং সঙ্গে যাতায়াতের ধকল—সব মিলিয়ে দিনের শেষে আলাদা করে শারীরিক চর্চা বা ব্যায়ামের জন্য সময় বের করা আধুনিক জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই শরীরচর্চাকে এক অতিরিক্ত মানসিক চাপ বলে মনে হয়। অথচ শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকতে দিনে অন্তত ১০ হাজার পা হাঁটা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কর্মব্যস্ততার মধ্যে এটি কীভাবে সম্ভব?

বিজ্ঞান ও বুদ্ধির সঠিক ব্যবহারে কাজের পাশাপাশিই এই লক্ষ্যপূরণ সম্ভব। দৈনন্দিন কাজের ব্যত্যয় না ঘটিয়েই একটু সচেতন হলে অনায়াসে পৌঁছে যাওয়া যায় দৈনিক ১০ হাজার পা হাঁটার লক্ষ্যে। মূল কৌশল দুটি পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে গঠিত—প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং সুযোগ পেলেই হেঁটে কাজ সম্পন্ন করা।

১. ওয়াকিং প্যাড (Walking Pad):

যাঁরা দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে বসে কাজ করেন, তাঁদের জন্য 'ওয়াকিং প্যাড' একটি চমৎকার সমাধান। এটি দেখতে ট্রেডমিলের মতো হলেও আকারে অনেকটাই ছোট এবং কাজের টেবিলের নিচে সহজে সেট করা যায়। বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার ক্ষেত্রে এটি দারুণ কার্যকর। ইমেইল দেখা, অনলাইনে মিটিং বা প্রেজেন্টেশন শোনার সময় কিংবা ফোনে কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে এর ওপর হেঁটে নেওয়া যায়। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে কোমর ও পিঠে যে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়, তা দূর করতে এবং শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে এটি বড় ভূমিকা রাখে। এছাড়া আলস্য দূর করে কাজে মনোযোগ বাড়াতেও এটি বেশ সহায়ক।

২. কাজের ফাঁকে ফুরসতে হাঁটা:

প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটার জন্য যে টানা দীর্ঘ সময় বের করতে হবে, বিষয়টি তেমন নয়। সারাদিনের ছোট ছোট হাঁটার সমষ্টিই এই বিশাল লক্ষ্য পূরণ করতে পারে। সামান্য কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করেই এটি অর্জন করা সম্ভব:

ফোনে কথা বলার সময় হাঁটুন: কাজের প্রয়োজনে বা ব্যক্তিগত ফোনে কথা বলার সময়ে এক জায়গায় বসে না থেকে পায়চারি করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সিঁড়ি ব্যবহার করুন: অফিসে বা বাড়িতে লিফটের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও লিফট এড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা শুরু করুন। এতে একযোগেই পায়ের পেশি শক্ত হবে এবং পদক্ষেপের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।

খাওয়ার পর পায়চারি: দুপুরের কিংবা রাতের খাবারের পরপরই অলসভাবে বসে না পড়ে অন্তত ১০-১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। এতে খাবার দ্রুত হজম হবে এবং শরীরে বাড়তি মেদ জমতে পারবে না।

যাতায়াতে কিছু পথ হেঁটে চলুন: অফিসে যাওয়া বা আসার পথে গাড়ি থেকে কিছুটা দূরে নেমে বাকি পথটুকু হেঁটে নেওয়া যেতে পারে।

কাজের ফাঁকে বিরতি: টানা বসে না থেকে প্রতি এক বা দেড় ঘণ্টা পর পর ডেস্ক ছেড়ে উঠে অন্তত ৫ মিনিটের জন্য একটু হেঁটে আসুন।

ভোরে উঠে একটানা বহু কিলোমিটার হাঁটার সুযোগ বা সময় না থাকলেও দৈনন্দিন জীবনে এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো এনে সুস্থ থাকাও সম্ভব, আবার কাজের লক্ষ্যও পূরণ করা সম্ভব।