টার্গেট ২৮৮, ১১১ রানেই গুটিয়ে গেল কামিন্সরা
কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৬ রানে হারিয়ে টেস্ট সিরিজ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই সঙ্গে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দলের আসনে বসল প্রোটিয়ারা। শেষ হাসি হাসলেন তেম্বা বাভুমারাই।
হিসাব একদম পরিষ্কার ছিল। কেপটাউনে ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করতে হলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮৮ রান। এই মাঠে অতীতে তিনশোর বেশি রান তাড়া করে টেস্ট জয়ের ইতিহাস রয়েছে অসিদের। ফলে তাদের কোনোভাবেই সহজভাবে নেওয়ার উপায় ছিল না। তবে সাইমন হারমার দেখিয়ে দিলেন স্পিন ভুলের জাদু। তাঁর ঘূর্ণি ভেলকিতে মাত্র ১১১ রানেই ধসে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ।
এই পিচেই আগের তিন ইনিংসে দুবার তিনশোর ও একবার চারশোর বেশি রান হয়েছিল। কিন্তু চতুর্থ ইনিংসে এসে চরম বিপাকে পড়েন অসি ব্যাটাররা। ধস নামানোর কাজটা শুরু করেছিলেন কাগিসো রাবাডা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ম্যাট রেনশ (০) ও মার্নাস লাবুশেনকে (৪) সাজঘরে ফেরান তিনি। পরে ট্রেভিস হেডও (১৪) শিকার হন এই পেসারের। হারমার ম্যাচ জেতানোর নায়ক হলেও ইনিংসের শক্ত ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন রাবাডাই।
বাকি কাজটা সারেন হারমার। একমাত্র ক্যামেরন গ্রিন (২৭) ছাড়া মিডল অর্ডারের কেউ সেভাবে রান পাননি। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা জশ ইংলিস ৪ রান করার পর ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হন। যা প্যাট কামিন্সদের ইনিংসে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়।
শেষের দিকে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর প্রাণপণ চেষ্টা করলেও সফল হননি। ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন লায়ন। ২১.১ ওভার বল করে ১৪টি মেডেন নেন সাইমন হারমার। মাত্র ১৬ রান খরচ করে তুলে নেন ৬টি উইকেট। এর আগে প্রথম ইনিংসেও তিনি পেয়েছিলেন ৪ উইকেট। অর্থাৎ, ম্যাচে মোট ১০ উইকেট শিকার করে দক্ষিণ আফ্রিকার অবিস্মরণীয় জয়ের নায়ক বনে যান হারমার।
এর আগে কেপটাউনে প্রথম ইনিংসে মার্কাস অ্যাকারম্যানের ৯৫ রানের ওপর ভর করে ৩২৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে জশ ইংলিসের ১০২ রানের সুবাদে ৪২৯ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংস থেকেই ১০০ রানের লিড পেয়েছিল তারা।
এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে দাঁড় করায় ৩৮৭ রান। দলের চরম বিপদের মুহূর্তে রায়ান রিকেলটন (১০১) ও উইয়ান মুল্ডার (১১৫) দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন। অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮৮ রান। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় কামিন্সদের ইনিংস।