নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনেই কি ফ্যাটি লিভার ফিরবে স্বাভাবিক অবস্থায়?
লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম প্রধান এবং ব্যস্ত একটি অঙ্গ, যা প্রতিদিন অন্তত পাঁচ শতাধিক জটিল কাজ পরিচালনা করে। এর মধ্যে রয়েছে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ দূর করা, প্রোটিন সংশ্লেষণ, রক্ত পরিশোধন এবং হজমে সহায়তা করা।
সাধারণত অতিরিক্ত মদ্যপান বা ধূমপানকে লিভারের ক্ষতির প্রধান কারণ ভাবা হলেও, বর্তমান সময়ে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এবং শারীরচর্চার অভাবের কারণেও লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমছে। এমনকি তরুণ প্রজন্মও আজ এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে।
তবে লিভার কতটা সুস্থ হবে, তা মূলত নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর:
রোগের পর্যায়: অসুখটি প্রাথমিক পর্যায়ে আছে নাকি সেখানে প্রদাহ বা স্থায়ী ক্ষত (ফাইব্রোসিস) তৈরি হয়েছে।
মেদের পরিমাণ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য: লিভারে ঠিক কী পরিমাণ চর্বি জমেছে এবং রোগীর সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্য কেমন।
অন্যান্য শারীরিক সমস্যা: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের মতো সমস্যা রয়েছে কি না।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাটি লিভার মানেই যে লিভারের আকার বড় হয়ে যাবে, এমন কোনো কথা নেই। অনেক সময় চর্বি জমলেও লিভারের আকার স্বাভাবিক থাকে, যা কেবল নানা পরীক্ষার মাধ্যমেই ধরা পড়ে। যদি লিভারে কোনো স্থায়ী ক্ষত বা প্রদাহ তৈরি না হয়, তবে সঠিক জীবনযাত্রার মাধ্যমে লিভারের মেদ পুরোপুরি গলিয়ে ফেলা সম্ভব।
সুস্থতার জন্য কী কী করা দরকার?
ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণ ও লিভারকে সুস্থ রাখতে জীবনযাত্রায় কিছু সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি:
ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন থাকলে শরীরের মোট ওজনের মাত্র ৫ শতাংশ কমালেই লিভারের চর্বি কমতে শুরু করে। তবে ক্র্যাশ ডায়েট বা হুট করে ওজন কমানোর চেষ্টা না করে সুষম খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ওজন কমানো উচিত।
খাদ্যতালিকা থেকে বর্জন: প্রথমেই খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে সব ধরনের চিনিযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং পরিশোধিত শর্করা (রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট)।
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ: পাতে রাখতে হবে টাটকা শাকসবজি, মাছ, ডিম, লেবুজাতীয় ফল এবং বিভিন্ন ধরনের বেরি, যা লিভারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দারুণ কার্যকর।
শারীরিক সক্রিয়তা: নিয়মিত হাঁটাচলা এবং হালকা শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম লিভারের মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।
অন্যান্য রোগ নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা লিভারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই বাঞ্ছনীয়।