ছয় বছরে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ: কপিরাইট আন্দোলন থেকে গীতিকবিদের কল্যাণ
কপিরাইট আইন সংশোধনের দাবি, রয়্যালটি আদায়ে উদ্যোগ, সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ, প্রবীণ গীতিকবিদের সম্মাননা এবং অসুস্থ ও অসচ্ছল স্রষ্টাদের পাশে দাঁড়ানো—প্রতিষ্ঠার ছয় বছরে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ। তবে গীতিকবিদের ন্যায্য অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এখনো রয়ে গেছে নানা চ্যালেঞ্জ।
বাংলা গানের মৌলিক স্রষ্টা গীতিকবিদের অধিকার, মর্যাদা, স্বীকৃতি ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠার পর ছয় বছরে সংগঠনটি কপিরাইট আইন সংশোধনের দাবি উত্থাপন, রয়্যালটি আদায়ে উদ্যোগ, গীতিকবিদের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ, প্রবীণ স্রষ্টাদের সম্মাননা এবং অসুস্থ ও অসচ্ছল গীতিকবিদের সহায়তাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সংঘের বিভিন্ন উদ্যোগ, অর্জন ও কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক, গীতিকবি সিরাজুম মুনির।
সংগঠনটির সঙ্গে চার বছরের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি লিখেছেন, ছয় বছরের কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে গেলে ‘সংঘজনের গীতিকবিতা’র মতো আরেকটি গ্রন্থ প্রকাশ করা সম্ভব।
গীতিকবিদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম
২০২০ সালের ৩ জুলাই বিভিন্ন প্রজন্মের গীতিকবিদের অংশগ্রহণে প্রথম সাংগঠনিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। একই বছরের ২৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি।
অর্ধশতাধিক গীতিকবির মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হয় সংগঠনের নাম, গঠনতন্ত্র ও সমন্বয় কমিটি। প্রবীণ গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান ও মনিরুজ্জামান মনিরসহ বরেণ্য গীতিকবিদের সমর্থন ও অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে এর সাংগঠনিক ভিত্তি। পরবর্তী সময়ে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন, নির্বাচন, সাধারণ সভা ও সদস্যপদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়।
কপিরাইট আইন সংশোধনে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উদ্যোগ
প্রতিষ্ঠার প্রথম মাস থেকেই গীতিকবিদের কপিরাইট ও সৃষ্টিকর্মের অধিকার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা শুরু করে সংঘ।
২০২০ সালের ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের তৎকালীন রেজিস্ট্রার ও যুগ্ম সচিব জাফর রাজা চৌধুরীর সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে গাজী মাজহারুল আনোয়ার, মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান ও মনিরুজ্জামান মনিরসহ আরও অনেকে অংশ নেন। প্রস্তাবিত কপিরাইট আইনে গীতিকবিদের স্বার্থ সংরক্ষণ, গানের মৌলিক স্রষ্টাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান আইনগত জটিলতা নিরসনের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়। একই মাসে আইন সংশোধনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেয় সংগঠনটি।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে কপিরাইট আইন সংশোধন নিয়ে অংশীজনদের আলোচনায় গীতিকার ও সুরকারকে যৌথভাবে গানের প্রণেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। তবে পরবর্তী সময়ে সংশোধিত আইনের খসড়ায় গীতিকারদের স্বীকৃতি বাদ পড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সভাপতি সিমিন হোসেন রিমির কাছে বিষয়টি তুলে ধরার উদ্যোগ নেয় সংঘ। সংগঠনটির মতে, গীতিকবিদের সৃষ্টিকর্মের মালিকানা, কপিরাইট ও ন্যায্য রয়্যালটির অধিকার রক্ষায় এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রয়্যালটি নিয়ে অভিযোগে সরাসরি হস্তক্ষেপ
গীতিকবিদের আর্থিক অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন সময় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে সংগঠনটি। ২০২৬ সালের অক্টোবরে একজন গীতিকবি রয়্যালটির হিসাব নিয়ে অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট রয়্যালটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন সংঘের নেতারা। আলোচনার ভিত্তিতে হিসাব পুনরায় প্রদান ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যক্তিগত রয়্যালটি-সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় সংগঠনের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ গীতিকবিদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
সবার জন্য উন্মুক্ত কপিরাইট কর্মশালা
গীতিকবিদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের সহযোগিতায় কপিরাইট কর্মশালার আয়োজন করে সংঘ।
কর্মশালায় কপিরাইট নিবন্ধন, সৃষ্টিকর্মের স্বত্ব সংরক্ষণ, গীতিকবিদের আইনগত অধিকার ও সংশ্লিষ্ট জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। আয়োজনটি শুধু সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সব গীতিকবির জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।
প্রয়াত গীতিকবিদের স্মৃতি ও সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ
কিংবদন্তি গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ারের স্মৃতি ও অবদান সংরক্ষণে ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে যৌথভাবে স্মরণসভার আয়োজন করে সংঘ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত গীতিকবির পরিবারের সদস্য, বরেণ্য গীতিকবি, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
অনুষ্ঠানে গাজী মাজহারুল আনোয়ারের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। পাশাপাশি তাঁর কালজয়ী গান সংরক্ষণ এবং তাঁর নামে কোনো স্থাপনা বা সড়কের নামকরণের দাবি তোলা হয়।
এছাড়া ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি প্রয়াত কবি ও গীতিকবি জাহিদুল হকের স্মরণে বিশেষ সভার আয়োজন করে সংগঠনটি। প্রয়াত গীতিকবি কে জি মোস্তফা, কাওসার আহমেদ চৌধুরী, ওমর ফারুক বিশাল ও বর্ণ চক্রবর্তীর মতো বিভিন্ন প্রজন্মের স্রষ্টাদের অবদান স্মরণ এবং তাঁদের সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও সংঘের বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এসেছে।
জীবিত কিংবদন্তিদের সম্মাননা ও ‘গীতিকবি আড্ডা’
প্রবীণ গীতিকবিদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের সৃষ্টিশীল জীবন নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সংঘ। ২০২০ সালের শেষ দিকে সংগঠনের নেতারা আজীবন সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের ছবি সংবলিত বিশেষ শুভেচ্ছাপত্র পৌঁছে দেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১০ মে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় ‘গীতিকবি আড্ডা’র প্রথম পর্ব। এতে বাংলা আধুনিক গানের তিন বিশিষ্ট গীতিকবি শহীদ মাহমুদ জঙ্গী, লিটন অধিকারী রিন্টু ও গোলাম মোর্শেদকে সম্মাননা জানানো হয়।
২০২৬ সালের ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পর্বে অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়জী ও তরুণ মুন্সী। এসব আয়োজনে গীতিকবিদের গান লেখার অভিজ্ঞতা, সৃষ্টিশীল জীবন, শিল্পদর্শন ও বাংলা সংগীতে তাঁদের অবদানের নানা দিক উঠে আসে।
১২৯ গীতিকবির সৃষ্টিকর্ম নিয়ে ‘সংঘজনের গীতিকবিতা’
সংঘের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ প্রকাশনা ‘সংঘজনের গীতিকবিতা’। গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশ ও অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্সের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত গ্রন্থটি ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়।
গ্রন্থটিতে প্রবীণ থেকে নবীন—মোট ১২৯ জন গীতিকবির সংক্ষিপ্ত জীবনী, আলোকচিত্র, প্রত্যেকের নির্বাচিত ১০টি গানের তালিকা এবং একটি করে পূর্ণাঙ্গ গীতিকবিতা স্থান পেয়েছে। এভাবে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি নির্বাচিত গানের তথ্য ও ১২৯টি পূর্ণাঙ্গ গীতিকবিতা এক মলাটে সংরক্ষিত হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ, লেখা সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, সম্পাদনা এবং প্রকাশকের সঙ্গে সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় প্রকাশনাটির কাজ। বাংলা গানের স্রষ্টাদের পরিচিতি ও সৃষ্টিকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে গ্রন্থটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অসুস্থ ও অসচ্ছল গীতিকবিদের পাশে
সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি অসুস্থ ও আর্থিক সংকটে থাকা গীতিকবিদের সহায়তায়ও উদ্যোগী হয়েছে সংঘ। সংগঠনটির কার্যক্রমের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মোট ৫৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী আর্থিক সংকটে থাকা একজন গীতিকবির চিকিৎসার জন্য সদস্যদের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত সংগৃহীত ২২ হাজার টাকা তাঁর হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
নথিভুক্ত এই দুটি উদ্যোগে মোট ৭৫ হাজার টাকা সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। এর বাইরেও বিভিন্ন সময় অসুস্থ ও বিপদগ্রস্ত গীতিকবিদের পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সহায়তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষায় তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সদস্য ও পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি
সদস্যদের কল্যাণে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে করপোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি স্বাক্ষর করে সংঘ। চুক্তির আওতায় সদস্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা, এক্সিকিউটিভ হেলথ চেকআপ, কার্ডিয়াক চেকআপ এবং হাসপাতালের নির্ধারিত চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে সদস্যদের তথ্য যাচাই ও পরিচয়পত্র প্রস্তুতের কাজও পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ সংগঠনের সদস্যকল্যাণ কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গীতিকবি ও সুরকারদের পৃথক পুরস্কারের দাবি
গানে গীতিকবি ও সুরকারদের স্বতন্ত্র অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে পৃথক ক্যাটাগরি চালুর দাবি তুলেছে সংঘ। এ বিষয়ে ২০২৪ সালে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হয়।
সংগঠনটির যুক্তি, একটি গানের জনপ্রিয়তার পেছনে কণ্ঠশিল্পীর পাশাপাশি গীতিকবি ও সুরকারেরও মৌলিক অবদান থাকে। তাই পুরস্কার ও সম্মাননার ক্ষেত্রেও তাঁদের স্বতন্ত্র অবদানের স্বীকৃতি থাকা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল পরিচিতি
সংগঠনের কার্যক্রম ও সদস্যদের পরিচিতি ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ২১ মার্চ বার্ষিক সাধারণ সভায় গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশের নিজস্ব ওয়েবসাইট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
ওয়েবসাইটটিতে সদস্যদের প্রোফাইল, সংগঠনের পরিচিতি ও বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে গীতিকবিদের পরিচিতি এবং সাংগঠনিক তথ্য সংরক্ষণ ও প্রচারের একটি ডিজিটাল মাধ্যম তৈরি হয়েছে।
ওয়েবসাইট: https://lyricistsassociationbd.com/
নির্বাচন, সদস্যপদ ও সাংগঠনিক জবাবদিহি
গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে সংঘ। ২০২১-২০২২ মেয়াদের প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের পর ২০২২ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটি গঠিত হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে পরবর্তী মেয়াদের ১৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনী ফল ঘোষণা, শপথ গ্রহণ ও দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।
সদস্যপদ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও উদ্যোগ অব্যাহত ছিল। ২০২৩ সালে ১১ জন নতুন গীতিকবিকে সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরও নতুন ও তরুণ গীতিকবিদের সংগঠনে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
২০২৫ সালের ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় সাধারণ সম্পাদক সাংগঠনিক প্রতিবেদন এবং অর্থ সম্পাদক আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সভায় নতুন সদস্যদের পরিচয়ও করিয়ে দেওয়া হয়।
সাধারণ সভা, ইফতার, সম্মাননা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও ‘গীতিকবি আড্ডা’র মতো কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবীণ ও নবীন গীতিকবিদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
ছয় বছরে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও গীতিকবিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ন্যায্য রয়্যালটি নিশ্চিত করা, কপিরাইট আইনের কার্যকর প্রয়োগ, মৌলিক স্রষ্টাদের যথাযথ সম্মানী এবং পেশাগত নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় আরও কাজ প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে সংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে সিরাজুম মুনিরের বক্তব্যে।
তিনি বলেন, “কাজ বাকি থাকা আর কোনো কাজই হয়নি, এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।”
সংগঠনের সমালোচনার অধিকার সবার আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমালোচনা হওয়া উচিত তথ্য, ইতিহাস ও বাস্তব অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের ভিত্তিতে।
তাঁর ভাষায়, “একটি স্বেচ্ছাসেবী সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাফল্য শুধু কতটি অনুষ্ঠান করেছে তা দিয়ে বিচার করা যায় না। কখনো একটি আইনি দাবি, কখনো একজন অসুস্থ সহকর্মীর পাশে দাঁড়ানো, কখনো একজন প্রবীণ স্রষ্টাকে সম্মান জানানো, আবার কখনো শতাধিক গীতিকবির সৃষ্টিকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান।”
প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গীতিকবি সংঘ বাংলাদেশের কর্মকাণ্ডে উঠে এসেছে অধিকার আদায়ের আন্দোলন, সাংগঠনিক ঐক্য, সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ, সামাজিক কল্যাণ ও পেশাগত স্বীকৃতির বহুমুখী প্রয়াস। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনে গীতিকবিদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে সংগঠনটি।