স্বাক্ষর হারিয়েছে, গোঁফের সেই ছন্দ হারায়নি
গুন্টার গ্রাসের অটোগ্রাফটি আজ আর আমার কাছে নেই।
তাঁর স্বাক্ষরের অক্ষরগুলো কেমন ছিল, তাও স্পষ্ট মনে করতে পারি না। সময় অনেক কিছু মুছে দেয়। অথচ বিস্ময়ের বিষয়, যে দৃশ্যটি ধরে রাখার কোনো সচেতন চেষ্টা করিনি, সেটিই চার দশক ধরে আমার স্মৃতির গহিনে অমলিন হয়ে আছে।
আমি মনে রেখেছি তাঁর গোঁফ।
আরও নির্দিষ্ট করে বললে, অটোগ্রাফ দেওয়ার সময় তাঁর গোঁফের নড়াচড়াকে।
আমার মনে হয়েছিল, এক অদ্ভুত শৈল্পিক ছন্দে গোঁফটি দুলে উঠছে।
আজ ভাবলে নিজের ওপরই হাসি পায়।
সামনে দাঁড়িয়ে আছেন বিশ্বসাহিত্যের এক মহীরুহ। তাঁর হাত থেকে অটোগ্রাফ নিচ্ছে সদ্য কৈশোর পেরোনো এক তরুণ। তার চোখ থাকার কথা কলমে, কাগজে, স্বাক্ষরের আঁচড়ে। অথচ সে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে একটি গোঁফের দিকে।
চল্লিশ বছর পর সেই মুহূর্তের কথা মনে পড়লে নিজের জন্য খানিক মায়াও হয়।
স্মৃতির স্বভাব বোধ হয় এমনই।
যে জিনিস যত্ন করে সযত্নে তুলে রাখতে চেয়েছিলাম, সেটিই হারিয়ে গেছে। আর যেটিকে ধরে রাখার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না, সেটিই টিকে আছে সমস্ত সময়ের ক্ষয় অতিক্রম করে।
সাল ১৯৮৬।
স্কুলজীবন সবে শেষ করেছি। বিভিন্ন কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে বেড়াচ্ছি। ঢাকা কলেজ তখন আমাদের মতো অসংখ্য তরুণের স্বপ্নের নাম। কোথায় ভর্তি হব, কেমন হবে নতুন জীবন, কোন দরজা খুলবে সামনে, সেইসব অজানা উত্তেজনা আর সংশয়ের ভেতর দিয়ে দিন কাটছে।
মনে হচ্ছিল, পরিচিত পৃথিবীটি হঠাৎ করেই বড় হয়ে উঠেছে।
সেই সময় আমার এক নেশা ছিল।
আমি অটোগ্রাফ সংগ্রহ করতাম।
প্রিয় কবি, লেখক, শিল্পী কিংবা বুদ্ধিজীবী কাউকে কাছে পেলে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়ার সুযোগ খুঁজতাম। যে নাম এতদিন বইয়ের মলাটে বা পত্রিকার পাতায় দেখেছি, সেই মানুষটি নিজের হাতে কয়েকটি অক্ষর লিখে দেবেন, এর মধ্যেই যেন এক অদ্ভুত আনন্দ ছিল।
আজ বুঝি, আমি শুধু অটোগ্রাফ সংগ্রহ করছিলাম না।
সংগ্রহ করছিলাম নিজের বেড়ে ওঠার দিনগুলোকেও।
ঢাকায় বসবাসের সুবাদে আমার কৌতূহলের কয়েকটি প্রিয় ঠিকানা ছিল। আমেরিকান কালচারাল সেন্টার, রাশিয়ান কালচারাল সেন্টার, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং গোয়েটে ইনস্টিটিউট।
এসব জায়গায় যাওয়া মানে ছিল পরিচিত জীবনের দেয়াল ডিঙিয়ে অন্য এক জগতে প্রবেশ করা। নতুন ভাষা, নতুন সাহিত্য, নতুন শিল্পচর্চা এবং অন্যরকম চিন্তার মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া।
ঢাকার ভেতর থেকেই যেন পৃথিবীর দিকে একটি জানালা খুলে যেত।
কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি চলছিল ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে চলছিল আরেক ধরনের শিক্ষা। পাঠ্যবইয়ের বাইরে পৃথিবীকে চিনতে শেখার শিক্ষা।
সেই সময়ই গোয়েটে ইনস্টিটিউটে গুন্টার গ্রাসকে দেখার সুযোগ হয়েছিল।
তাঁর অটোগ্রাফও নিয়েছিলাম।
আমাদের মধ্যে ঠিক কী কথা হয়েছিল, আজ আর তা মনে নেই। কী বলে এগিয়ে গিয়েছিলাম, তিনি কী উত্তর দিয়েছিলেন, সেসব সময়ের কুয়াশায় হারিয়ে গেছে। চাইলে ভুলে যাওয়া জায়গাগুলো কল্পনা দিয়ে ভরে একটা চমৎকার গল্প বানানো যায়।
কিন্তু স্মৃতির সৌন্দর্য তার সত্যে।
একজন অটোগ্রাফ-উন্মুখ তরুণ।
সামনে একজন খ্যাতিমান লেখক।
আর স্বাক্ষর দেওয়ার সময় লেখকের গোঁফের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা সেই তরুণ।
হয়তো মুখের স্বাভাবিক নড়াচড়ার কারণেই গোঁফ নড়ছিল। কিন্তু আমার চোখে সেটি ছিল ছন্দময় এক দৃশ্য। মনে হয়েছিল, শিল্পীসত্তা যেন তাঁর শরীরের ক্ষুদ্রতম অঙ্গভঙ্গির মধ্যেও অদৃশ্যভাবে উপস্থিত।
আজও সেই দেখাটুকু পাল্টাতে ইচ্ছে করে না।
তখনও গুন্টার গ্রাস নোবেলজয়ী হননি। নোবেল পুরস্কার পেতে তাঁর আরও তেরো বছর বাকি। কিন্তু সাহিত্য জগতে তাঁর খ্যাতি তখনই প্রতিষ্ঠিত। ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত *দ্য টিন ড্রাম* তাঁকে বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠে পরিণত করেছে।
তিনি শুধু ঔপন্যাসিক ছিলেন না।
কবি ছিলেন।
নাট্যকার ছিলেন।
চিত্রকর ছিলেন।
ভাস্করও ছিলেন।
তাঁর বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার গভীরতা তখন কতটুকুই বা বুঝতাম!
একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার উত্তেজনাই ছিল আমার কাছে বড় বিষয়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সেই মুহূর্তের অর্থও বদলেছে।
অটোগ্রাফ পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষটিকে নতুন করে জানার আগ্রহ।
আমার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু তাঁর ঢাকা সফরের আরও বিস্তৃত ছবি পাওয়া যায় আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনের স্মৃতিচারণে।
মামুনের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালের ২ ডিসেম্বর স্ত্রী উটেকে নিয়ে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন গুন্টার গ্রাস। সাত দিনের সেই সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন কবি বেলাল চৌধুরী ও নাসির আলী মামুন।
তাঁদের অবস্থান ছিল ধানমন্ডির একটি রেস্টহাউসে।
এই সফরে গ্রাস রিকশায় চড়ে ঢাকা ঘুরেছেন। গেছেন লালবাগ কেল্লা, শাঁখারীবাজার, বাংলাবাজার ও সদরঘাটে। কারুশিল্পীদের কাজ দেখেছেন। পানাম নগরের পুরোনো স্থাপত্যের ছবি তুলেছেন, স্কেচ এঁকেছেন। এমনকি মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের মানুষের দুর্দশা নিয়েও কথা বলেছেন।
এসব পড়লে আজও আমার শহরটিকে নতুন করে দেখতে ইচ্ছে করে।
যে ঢাকায় আমি কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছি, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছি, অটোগ্রাফ সংগ্রহ করছি, সেই একই ঢাকায় দূরদেশের একজন লেখক মানুষের জীবনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
একই শহর।
একই সময়।
কিন্তু দেখার পরিসর ভিন্ন।
আমার কাছে ঢাকা ছিল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন।
তাঁর কাছে ঢাকা ছিল মানুষ, ইতিহাস ও সময়কে বোঝার এক সুযোগ।
বয়স বাড়ার পরে এই দেখার ক্ষমতাটিই আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায়।
আমরা প্রতিদিন কত কিছু পেরিয়ে যাই, কিন্তু দেখি না।
পুরোনো কোনো দরজার কারুকাজ।
রাস্তার ধারে বসে থাকা কোনো কারিগরের মনোযোগ।
একটি ছোট্ট ঘরে গাদাগাদি করে বেঁচে থাকা মানুষের জীবন।
এসবের সামনে দাঁড়িয়ে সময় নেওয়ার অভ্যাস আমাদের খুব কম।
শিল্পীরা সে কাজটি করেন।
গুন্টার গ্রাসের ঢাকা সফরের বিবরণে সেই মনোযোগের পরিচয় মেলে।
আর আমার ছোট্ট স্মৃতিতে রয়ে গেছে তাঁকেই মন দিয়ে দেখার একটি মুহূর্ত।
যদিও আমার দৃষ্টি আটকে ছিল তাঁর গোঁফে।
আজ আমার সংগ্রহের সব অটোগ্রাফ হারিয়ে গেছে।
এ কথা লিখতে গিয়ে মন একবার থেমে যায়।
হারিয়ে গেছে শুধু কয়েকটি স্বাক্ষর নয়। হারিয়ে গেছে বহু বিকেলের উত্তেজনা, বহু প্রতীক্ষার আনন্দ, বহু ছোট ছোট ব্যক্তিগত উৎসবের দরজাও।
আজ সেগুলো যদি থাকত, হয়তো একেকটি অটোগ্রাফ হাতে নিয়ে একেকটি দিনের কাছে ফিরে যেতে পারতাম।
ভুলে যাওয়া কোনো মুখ।
কোনো রাস্তা।
কোনো বিকেল।
কোনো সংক্ষিপ্ত কথোপকথন।
সবকিছু হয়তো আবার জেগে উঠত।
গুন্টার গ্রাসের স্বাক্ষরটির সামনে এসে নিশ্চয়ই একটু বেশি সময় থামতাম।
কাউকে হয়তো বলতাম,
“জানো, তিনি যখন এটি লিখছিলেন, আমি কিন্তু তাঁর লেখার দিকে তাকাইনি। তাকিয়ে ছিলাম তাঁর গোঁফের দিকে।”
বলতে বলতে আবার হেসে ফেলতাম।
কিন্তু সেই কাগজটি আর নেই।
আছে শুধু স্মৃতি।
এই অভাবটুকু কষ্ট দেয়।
জীবনের সব হারানো জিনিস ফিরে পাওয়া যায় না। কোনো কোনো জিনিসের মূল্য বোঝা যায় ঠিক তখনই, যখন সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
তাই আজ লিখে রাখছি।
যতটুকু মনে আছে, ততটুকুই।
যেন নিজের এক টুকরো তারুণ্য নিঃশব্দে হারিয়ে না যায়।
গুন্টার গ্রাসের একটি কবিতার শুরুতে নীরবতাকে ঘিরে এক প্রশ্ন আছে।
“কেন নীরব থাকি, এতকাল গোপন রাখি...”
অবশ্য সেই কবিতার রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত আমার এই ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কহীন। ২০১২ সালে প্রকাশিত কবিতা *যা বলতেই হবে* নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক হয়েছিল। সেখানে তিনি ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
তাঁর বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগও উঠেছিল।
পরে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন, তাঁর সমালোচনার লক্ষ্য ছিল নেতানিয়াহুর নীতি, কোনো জনগোষ্ঠী নয়।
এই বিতর্কের সঙ্গে আমার স্মৃতির সরাসরি সম্পর্ক নেই।
তবু কবিতার শুরুর প্রশ্নটি আমাকে ছুঁয়ে যায়।
মানুষের জীবনে কিছু কথা সময় থাকতে বলে ফেলা দরকার।
কোনো প্রতিবাদ।
কোনো স্বীকারোক্তি।
কোনো কৃতজ্ঞতা।
অথবা হারিয়ে যেতে বসা কোনো স্মৃতি।
গুন্টার গ্রাসের নিজের জীবনেও বলা ও না বলার এই জটিলতা ছিল।
ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি মার্কিন প্রশাসনের সমালোচনায় সরব ছিলেন। ক্ষমতার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
আবার নিজের অতীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য প্রকাশ করতে দীর্ঘ সময় নিয়েছেন।
কৈশোরে তিনি সাবমেরিনে কাজ করার জন্য নাম লিখিয়েছিলেন। পরে সতেরো বছর বয়সে তাঁকে ওয়াফেন এসএসে নেওয়া হয়। সেই তথ্য তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেন ২০০৬ সালে।
এ নিয়ে প্রবল বিতর্কও হয়েছিল।
আজ তাঁকে স্মরণ করতে গেলে এই অধ্যায়ও মনে রাখতে হয়।
কারণ ব্যক্তিগত মুগ্ধতা কোনো মানুষকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে তুলে দেয় না।
তাঁর সাহিত্যিক কৃতিত্ব, রাজনৈতিক অবস্থান, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং মানবিক সীমাবদ্ধতা, সবকিছু মিলিয়েই তাঁকে দেখতে হয়।
তারুণ্যে আমি যে লেখকের অটোগ্রাফ নিয়েছিলাম, পরিণত বয়সে তাঁকে আরও সম্পূর্ণভাবে বোঝার চেষ্টা করাই আমার কাছে তাঁর প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা।
তাঁর পুরস্কার সম্পর্কেও একটি ভুল ধারণা প্রায়ই শোনা যায়।
গুন্টার গ্রাস নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। কিন্তু *দ্য টিন ড্রাম* অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটি পেয়েছিল কান চলচ্চিত্র উৎসবের পাম দ'অর এবং পরে অস্কার।
পুরস্কারগুলো এক নয়।
তবে একটি সাহিত্যকর্মের প্রভাব যে চলচ্চিত্রের ভাষাতেও এত দূর বিস্তৃত হতে পারে, সেটি নিঃসন্দেহে অসাধারণ।
বহু বছর পর এক সাক্ষাৎকারে নাসির আলী মামুনকে তিনি আবার বাংলাদেশের কথা বলেছিলেন।
বাংলাদেশ তাঁর স্মৃতিতে ছিল।
ঢাকাও ছিল।
এই তথ্য জানলে এক ধরনের নীরব আনন্দ হয়।
যে শহরে আমি তাঁকে দেখেছিলাম, সেই শহরের কিছু দৃশ্য তিনিও সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন।
আমার মতো অটোগ্রাফ নিতে আসা একজন কিশোরকে তাঁর মনে থাকার কোনো কারণ ছিল না।
তাঁর বিস্তৃত জীবনে সেটি হয়তো ছিল মুহূর্তমাত্র।
কিন্তু আমার জীবনে তার স্থায়িত্ব চার দশকেরও বেশি।
একই ঘটনা দুই মানুষের জীবনে কত ভিন্ন মাত্রা পায়!
একজন স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান।
অন্যজন সেই স্বাক্ষর দেওয়ার ভঙ্গিটুকু সারা জীবন মনে রাখে।
আজ গুন্টার গ্রাসকে স্মরণ করতে গিয়ে আমি শুধু একজন নোবেলজয়ী লেখককে স্মরণ করছি না।
ফিরে দেখছি নিজের তারুণ্যকেও।
কলেজে ভর্তির উদ্বেগ।
সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোয় ঘুরে বেড়ানো।
পৃথিবীকে জানার আকাঙ্ক্ষা।
প্রিয় মানুষের কাছ থেকে একটি স্বাক্ষর পাওয়ার আনন্দ।
হারানো অটোগ্রাফগুলোর জন্য এখনো মন খারাপ হয়।
সেগুলো হয়তো আর কোনোদিন ফিরে পাব না।
তবু এই স্মৃতিটি লিখতে গিয়ে মনে হচ্ছে, হারানো সংগ্রহের অন্তত একটি পাতা যেন উদ্ধার করতে পেরেছি।
সেখানে স্বাক্ষরের অক্ষরগুলো অস্পষ্ট।
মানুষটির মুখ স্পষ্ট।
তিনি অটোগ্রাফ দিচ্ছেন।
আমি সামনে দাঁড়িয়ে আছি।
তাঁর গোঁফের দিকে তাকিয়ে।
আমার মনে হচ্ছে, সেটি নড়ছে এক শৈল্পিক ছন্দে।
চল্লিশ বছর পেরিয়ে গেছে।
কিন্তু সেই দৃশ্যের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটির বয়স আর বাড়েনি।
ভাবলে ভালো লাগে, যে শহরে আমি তাঁকে দেখেছিলাম, সেই শহরের স্মৃতি তিনিও সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। অবশ্য আমার মতো অটোগ্রাফ নিতে আসা একজন তরুণকে তাঁর মনে থাকার কোনো কারণ ছিল না। সেই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ আমার জীবনেই বেশি জায়গা পেয়েছে। কত সাক্ষাৎই তো এমন একজনের কাছে দিনের সামান্য ঘটনা, অন্যজনের কাছে বহু বছরের সঞ্চয়।
১৬ অক্টোবর ২০২৬, গুন্টার গ্রাসের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৭ সালের এই দিনে তাঁর জন্ম। ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।