সেই দেশ, এই দেশ (পর্ব-৩)

শরীফুল আলম, নিউইয়র্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ এএম
আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩২ এএম
Main News Image

বাংলাদেশে যখন যাই, চারদিকে তাকালেই মনে হয় সবাই কেমন যেন ক্ষেপে আছে। পানি, বিদ্যুৎ, খাবার, গ্যাস, রাস্তাঘাট, অফিস কিংবা সংসার, সব জায়গাতেই মানুষ যেন রাগারাগি করার একটি সুযোগ খুঁজে বেড়ায়। রাস্তায় বের হলেই মানুষ, মানুষের বাজে স্বভাব, অগোছালো যানবাহন, ধুলা, রোদ, বৃষ্টি এবং কোলাহল; সবকিছুই যেন রাগের অনুষঙ্গ। রেগে লাল হতে না পারলে যেন কারও ভালোই লাগে না।

আর এখানে সবকিছুই প্রতিদিন একই রকম মনে হয়। সত্যি কথা বলতে কী, আমি এখানে কোনো ধরনের বৈচিত্র্য খুঁজে পাই না। এখানে নতুন নতুন বন্ধু তৈরি হয়, আবার সম্পর্ক ভেঙেও যায়। এখানে প্রেম ও বিচ্ছেদ পাশাপাশি চলতে থাকে। সবারই সমান অধিকার রয়েছে।

দুই যুগেরও অধিক সময় আমি এই দেশে থাকার পরও নিজেকে এখনো এখানকার সঙ্গে পুরোপুরি একাত্ম করে নিতে পারিনি। সম্ভবত আমি অভিবাসী হয়ে এখানে এসেছি বলেই আমার শিকড় এখনো এখানে প্রোথিত হয়নি। আমার আবেগ আর আমার ছেলেদের আবেগের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। সম্ভবত এটাই তার কারণ। এটি ওদের দেশ, আমার নয়।

আমার স্ত্রী অবশ্য এই দেশটিকে ভালোবেসে ফেলেছে। নারীর অধিকার এবং নারীর নিরাপত্তা, এই দুটি বিষয়ই বোধ করি তার ভালোবাসার প্রধান কারণ।

আমি পৃথিবীর অনেক দেশে গিয়েছি; কিন্তু কেন জানি, কোথাও বাংলাদেশের স্বাদ পাই না। ফলে দেশের প্রতি, দেশের বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি এক গভীর টান সবসময় অনুভব করি। প্রায় প্রতিদিনই কারও না কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলি, দেশের খবরাখবর জানতে চাই।

খুন, লুটপাট, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতি, অর্থ পাচার, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অযোগ্যদের দাপট, এসব তো আছেই। তারপরও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে, জিডিপির পরিমাণও বাড়ছে।

এই দেশের উন্নতির সঙ্গে আমাদের দেশের উন্নতির প্রধান পার্থক্য হলো, এখানে প্রতিদিনই উন্নতি হয়, কিন্তু কেউ তা বিশেষভাবে টের পায় না। আর আমাদের দেশে উন্নতির পাশাপাশি দুর্নীতিও সমান তালে চলতে থাকে। তবু আশার কথা, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে, আর সেই অগ্রযাত্রার মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিহিত।