ধর্ষণ ও তথ্য গোপন : ১৫ বছর পর মার্কিন নাগরিকত্ব হারালেন এক ভারতীয়
১৫ বছর আগে সংঘটিত গুরুতর অপরাধ ও মামলার তথ্য গোপন করে বেআইনিভাবে অর্জিত মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করা হলো ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুরমীত সিংয়ের (৫৫)। নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা গুরমীতের নাগরিকত্ব (ন্যাচারালাইজেশন) বাতিলের চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালত।
মার্কিন বিচার বিভাগের (US Department of Justice) নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের মে মাসে নিউ ইয়র্কে ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করার সময় গুরমীত এক মহিলা যাত্রীকে অপহরণ করেন। যাত্রাপথে ওই মহিলা ঘুমিয়ে পড়লে তাঁকে নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে অন্য একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান গুরমীত। মহিলা জেগে উঠলে তাঁর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মুখ, চোখ এবং হাত-পা বেঁধে ট্যাক্সির ভেতরেই তাঁকে ধর্ষণ করেন গুরমীত। কোনোভাবে গাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় ছুটে গিয়ে এক পথচারীর সাহায্যে আত্মরক্ষা করেন ওই নির্যাতিতা।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানান গুরমীত সিং। অপরাধ ও চলমান তদন্তের তথ্য গোপন রেখেই ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি নাগরিকত্ব পেয়ে যান। পরবর্তীতে ঘটনার তদন্ত ও বিচারে ২০১৪ সালে আদালত গুরমীতকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে।
গুরমীত সিংয়ের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের ইতিহাসও দীর্ঘ। ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছয় মাসের অস্থায়ী ভিসা নিয়ে তিনি প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও বছরের পর বছর বিনা অনুমতিতে অবস্থান করার পর, পারিবারিক সূত্রে করা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনের মাধ্যমে ২০০০ সালের জুনে তিনি স্থায়ী বাসিন্দার (গ্রিন কার্ড) মর্যাদা পান।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী, নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য সৎ নৈতিক চরিত্র (Good Moral Character) বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যক্তি যদি তথ্য গোপন বা মিথ্যাচারের মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তবে আইনি প্রক্রিয়ায় তা বাতিল করা যায়, যাকে বলা হয় ‘ডি-ন্যাচারালাইজেশন’ (Denaturalization)।
আমেরিকার বিচার বিভাগ জানায়, নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত লঙ্ঘন ও জঘন্য অপরাধ গোপন করার দায়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুরমীতের নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আদালত তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে।