নেপালে হড়পা বান: মৃতের সংখ্যা ছাড়াল এক হাজার
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে বিধ্বংসী হড়পা বানের ছয় দিন পরও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সে দেশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮৭ জনে। অন্যদিকে তিব্বতে অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সব মিলিয়ে দুই অঞ্চলজুড়ে মৃতের সংখ্যা ১,০০৩ জনে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রায় ৪,৪৭১ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে তিব্বতেই নিখোঁজ ৫৪৬ জন।
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। সোমবার পর্যন্ত বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৬৩৯ জন কর্মী নিখোঁজ বলে জানিয়েছে প্রশাসন। নেপালি নাগরিকদের মধ্যে ৩,৩৩৩ জনের কোনো সন্ধান মেলেনি। এর মধ্যে নুয়াকোট জেলাতেই নিখোঁজ ১,১৫৮ জন এবং পার্শ্ববর্তী রাসুওয়া জেলায় খোঁজ নেই ৮৬৫ জনের। নিখোঁজদের তালিকায় ৫৯২ জন বিদেশী নাগরিক ছাড়াও নেপাল সেনার ৪৫ জন সদস্য, ৩৮ জন পুলিশকর্মী এবং ১৮ জন শুল্ক ও অভিবাসন দফতরের কর্মকর্তা রয়েছেন।
বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী ভারতেও। উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন জানিয়েছে, নেপাল থেকে নেমে আসা নদীগুলো থেকে ১৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা নেপালের বন্যার শিকার বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তবে পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি পরিসংখ্যানে তাঁদের যুক্ত করা হয়নি।
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, চিন-নেপাল সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসের ফলে ভোটে কোশী নদীতে এই বিপুল পরিমাণ জলরাশি নেমে আসে এবং আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে সাধারণ কোনো বন্যা বলতে নারাজ নেপালের প্রশাসন। হিমালয় অঞ্চলে বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে নেপালের ভূমিকা নগণ্য হলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি চরম ঝুঁকির মুখে। বিজ্ঞানীরাও আশঙ্কার সুর মিলিয়ে জানিয়েছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলার ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা আরও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।