নেপালের এই বাড়িটি রক্ষা পেলো কীভাবে

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
Main News Image

নেপালের নুয়াকোট অঞ্চলে ভয়াবহ হড়পা বান ও প্লাবনে চারপাশে যখন সব কিছু তছনছ হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, ঠিক তখন প্রবল স্রোতের মাঝে অটুট হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি বাড়ি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই দৃশ্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই ব্যাপক সাড়া পড়ে গিয়েছে। চারদিকে কাদাজলের তোড়ে বড় বড় বহুতল ভবন ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেলেও এই সবুজ রঙের বাড়িটি বিপর্যয়ের মুখে টিকে থেকে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যায়, বাড়িটির চারপাশ দিয়ে ধেয়ে চলেছে রাক্ষুসে বানের জল। প্লাবনের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ির বারান্দা ও ছাদের কার্নিসে আটকে পড়েন পরিবারের কয়েকজন সদস্য। জীবন বাঁচাতে তাঁরা ছাদে উঠে লাল কাপড় দেখিয়ে উদ্ধারকারী দলকে বিপদ সংকেত পাঠানোর আকুল চেষ্টা করছেন। তীব্র স্রোতের ধাক্কায় বাড়িটির কার্নিসের কিছুটা অংশ ভেঙে পড়লেও মূল কাঠামোটি সম্পূর্ণ স্থির ও অটুট দাঁড়িয়ে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়িটির টিকে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে এর শক্তপোক্ত নির্মাণশৈলী। নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে সাধারণত কাঠ ও পাথর দিয়ে তৈরি বাড়ি বেশি দেখা যায়, যা হড়পা বানের তীব্রতায় সহজেই ভেসে যায়। তবে ভাইরাল হওয়া বাড়িটি ছিল আধুনিক কংক্রিটের কাঠামোয় তৈরি। বাড়িটির পিলার, বিম এবং ভিতের সঙ্গে শক্ত স্টিলের রডের গভীর সংযোগ থাকায় জলের প্রচণ্ড তোড়ও এর ভিত নাড়াতে পারেনি।

ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশলের পাশাপাশি বাড়িটির অবস্থানগত সুবিধাও একে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাড়িটি মূল বন্যায় ধেয়ে আসা প্রধান স্রোতের সরাসরি পথ থেকে সামান্য দূরে এবং তুলনামূলক কিছুটা উঁচু জায়গায় নির্মিত ছিল। ফলে বন্যার সবচেয়ে বিধ্বংসী আঘাতটি সরাসরি এর ওপর পড়েনি। তাছাড়া বাড়িটি চওড়ার দিক থেকে কিছুটা ছোট হওয়ায় পানির প্রবল ধাক্কা এক জায়গায় আটকে না থেকে দুই পাশ দিয়ে ভাগ হয়ে সহজে বয়ে যেতে পেরেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই অবশ্য এই ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বা ভগবানের অশেষ আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। ধ্বংসস্তূপের মাঝে এমনভাবে বেঁচে যাওয়াকে স্থানীয়রা অলৌকিক বলেই মনে করছেন। কারণ যাই হোক না কেন, ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই বাড়িটি এখন নুয়াকোট বন্যার সবচেয়ে আলোচিত প্রতীকে পরিণত হয়েছে।