গাছে চড়ে প্রাণরক্ষা ৮ বছরের শিশুর
নেপালের রুসুয়ায় সাম্প্রতিক বিধ্বংসী হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে আস্ত স্কুলভবন। চারদিকে কেবল কাদামাটি ও পাথরের স্তূপ দেখে নিজের দুই সন্তানের বেঁচে থাকার সব আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন মা মাট্টি মায়া তামাং। তবে অলৌকিকভাবেই প্রাণরক্ষা পেয়েছে তাঁর আট বছরের ছোট ছেলে জ়োয়াল ঘালে। তীব্র জলচ্ছ্বাসের তোড় থেকে বাঁচতে জঙ্গলমুখী হয়ে একটি গাছে চড়ে বসেছিল খুদে জ়োয়াল। টানা দু'দিন পর অবশেষে কাঠমান্ডুর এক হাসপাতালে ডান পা ভাঙা ও বাঁ হাতের মুঠোয় দু’টি ১০ টাকার নোট আঁকড়ে ধরা অবস্থায় ছেলেকে ফিরে পান তাঁর মা।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ। নেপালের ভোটেকোশী নদীতে হঠাৎ তীব্র বেগে হড়পা বান নেমে আসে। প্রতিদিনের মতোই দুই ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে বাড়িতে বসে তাঁত বুনছিলেন মায়া। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে ঘরের বাইরে বেরিয়ে তিনি দেখেন চারপাশে ধেয়ে আসছে জলকাদার স্রোত। তড়িঘড়ি ১৫-২০ মিনিটের দূরত্বে ছেলেদের স্কুলের দিকে ছুটে যান তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, স্কুলবাড়ি কিংবা পাশের বাজারের আর কোনো অস্তিত্বই নেই; চারদিকে পড়ে রয়েছে শুধু কাদামাটি আর বিশাল সব পাথর।
অন্যদিকে, বিপদের মুখে বুদ্ধিমত্তা দেখিয়ে জঙ্গলের একটি গাছে উঠে পড়েছিল ছোট ছেলে জ়োয়াল। পুলিশ সেখান থেকেই তাকে উদ্ধার করে নুয়াকোটের চক্র দেব হাসপাতালে নিয়ে যায়। আঘাত পাওয়া জ়োয়াল ভয়ে হাসপাতালে আসতে না চাইলে সেখানকার কর্মচারীরা তার বাঁ হাতের মুঠোয় দু’টি ১০ টাকার নোট গুঁজে দিয়ে বুঝিয়ে নিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে রয়টার্সের সাংবাদিক সাহান বজ্রাচার্য হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে দেখেন। পরিবারের কোনো খোঁজ না মেলায় তিনি জ়োয়ালের একটি ছবি তুলে নিজের ফোন নম্বর হাসপাতালে রেখে আসেন। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য জ়োয়ালকে পাঠানো হয় কাঠমান্ডুতে।
সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা মায়া একের পর এক হাসপাতাল, মর্গ ও আশ্রয় শিবিরে ঘুরেও যখন কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না, তখন জানতে পারেন সাংবাদিক সাহানের বিষয়ে। ফোনে সাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই তিনি মায়াকে কাঠমান্ডু পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সেখানে গিয়ে শুক্রবার চিকিৎসাধীন ছেলেকে দেখতে পান মায়া। এর মধ্যেই তাঁর অন্য পুত্রের খোঁজও পাওয়া যায়। ভয়াবহ বন্যায় পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও, দুই সন্তানকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে মাট্টি মায়া তামাংয়ের জীবনে।