ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ন্ত্রণ চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
Main News Image

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সাড়ে ৬ হাজার কোটি (৬৫ বিলিয়ন) ব্যারেলেরও বেশি তেলের মজুত নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, এই চুক্তির ফলে আমেরিকার তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বাড়বে, তেল সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং মার্কিন নাগরিকদের জন্য গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। চুক্তিতে আমেরিকান করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তিটি নিশ্চিত করেছেন। রুবিও এটিকে আমেরিকান ও ভেনেজুয়েলা উভয় দেশের জনগণের জন্য একটি 'বিশাল বিজয়' হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি জানান, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আনবে এবং হাজার হাজার উচ্চ-বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে গতি আনবে। তবে মার্কিন প্রতিশ্রুতি বা শর্তগুলো সম্পর্কিত চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি দেশের হাইড্রোকার্বন শিল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এই চুক্তির আওতায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুতের সম্ভাবনা থাকা ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হবে। এর ফলে একশ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি রাষ্ট্র ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর পাবে। রদ্রিগেজের মতে, এই পদক্ষেপ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য আনতেও সহায়তা করবে।

সিবিএস নিউজকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ভেনেজুয়েলার একটি অভিজ্ঞ বেসরকারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গঠিত যৌথ উদ্যোগের ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সরকার নিজের কাছে রাখবে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ এই যৌথ উদ্যোগকে তেলক্ষেত্রগুলো পরিচালনার জন্য ১০০ বছরের অনুমোদন দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছিল, যা এই চুক্তির নেপথ্যে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বিশেষ বাহিনীর এক অভিযানে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী আটক হন। এরপর ট্রাম্প জানান যে ভেনেজুয়েলায় নিরাপদ হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রশাসন ও তেল বিক্রির ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নিয়ন্ত্রণ রাখবে। ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেলের মজুত (প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল) থাকলেও ১৯৯০-এর দশকের পর থেকে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়। ট্রাম্পের অভিযোগ, অতীতে ভেনেজুয়েলা একতরফাভাবে আমেরিকান তেল সম্পদ ও প্ল্যাটফর্ম দখল করে বিক্রি করেছিল, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়।