নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক প্রাণহানির নেপথ্য কারণ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০২ এএম
Main News Image

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় এক বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যাতে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক শত নাগরিক। ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে গঠিত এই আকস্মিক বন্যার প্রাথমিক কারণ হিসেবে শুরুতে ভূমিকম্পের কথা ভাবা হলেও পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এবং নেপালের আবহাওয়া ও জলবিজ্ঞান বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, এই দুর্যোগের মূল সূত্রপাত হয়েছিল পাহাড় থেকে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ হিমবাহ ও ভূমিধস থেকে। তিব্বত অংশের উজান নদী লেন্ডেতে বিশাল বরফের চাপ, পাথর এবং অন্যান্য পলি ধসে পড়ার ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তীতে তা ভেঙে ভোতে কোশী ও ত্রিশূলী নদীতে প্রলয়ঙ্করী আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া এবং বরফ গলা নদীর পানি হঠাৎ উপচে পড়াও এই ধ্বংসযজ্ঞকে ত্বরান্বিত করেছে।

দুর্যোগকবলিত এলাকাটি দুর্গম ও বিপদসংকীর্ণ হলেও ঘটনার সময় সেখানে বহু দেশি-বিদেশি পর্যটক ও পূণ্যার্থীর উপস্থিতি ছিল। এর মূল কারণ হলো আক্রান্ত এলাকাটি হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন—এই তিন ধর্মের অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি তীর্থস্থান। বিশেষ করে তিব্বতের কৈলাস পর্বতের নিকটবর্তী ‘মানস সরোবর’ এবং নেপালের রাসুয়া জেলার ‘গোসাইকুণ্ড হ্রদ’ ভ্রমণ ও পুণ্যস্নানের জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে, বিশেষ করে পূর্ণিমার শুভ তিথিতে বহু ভারতীয়সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা তিব্বত-নেপালের এই ঐতিহ্যবাহী রুটে সমবেত হন। এছাড়াও গিয়িরং সীমান্ত চীন ও নেপালের পর্যটন ও বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশপথ হওয়ায় সেখানে ট্যুর গাইড এবং বিদেশি ভ্রমণকারীদের আনাগোনা সব সময়ই বেশি থাকে, যার ফলে এই আকস্মিক দুর্যোগে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আক্রান্ত ও নিখোঁজ হন।