কানাডা 'অঙ্গরাজ্যে'র সুবিধা চাইছে ট্রাম্পের অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১১ এএম
Main News Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা ফলাফল ছাড়া ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন পূর্ণাঙ্গ 'বাণিজ্য যুদ্ধে' রূপ নিয়েছে। বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, কানাডা কোনো অঙ্গরাজ্য না হয়েও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে চাইছে।

ট্রাম্পের অবস্থান ও নতুন শুল্ক

কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (২৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার) মূল্যের বাণিজ্যে প্রভাব ফেলবে।

এই নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে মদ, দুগ্ধজাত পণ্য, পোশাক, সিমেন্ট ও হকি সরঞ্জাম। এছাড়া ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর আগের শুল্ক বহাল থাকছে।

কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের "৫১তম অঙ্গরাজ্য" বানানোর ব্যাপারে ট্রাম্পের ক্রমাগত মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা ঘোষণা

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন সিদ্ধান্তকে 'ভুল হিসাব' আখ্যা দিয়ে আগামী ৮ই সেপ্টেম্বর থেকে 'ডলার-ফর-ডলার' সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হবে মার্কিন ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ওপর।

মার্ক কার্নি জানান, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার অন্য দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করার সক্ষমতা সীমিত করার মতো অগ্রহণযোগ্য শর্ত চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, যা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য

মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে কানাডার কনজারভেটিভ বিরোধী দল ও প্রধান প্রদেশগুলোর নেতারা।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি মন্তব্য করেছেন, অন্য দেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করার অধিকার কেড়ে নেওয়া মানে কানাডাকে অর্থনৈতিকভাবে ৫১তম অঙ্গরাজ্যের সমতুল্যে নামিয়ে আনা—যা কানাডিয়ানরা কখনো মেনে নেবে না।

অন্টারিও ও কুইবেকের প্রাদেশিক প্রধানরাও মার্কিন নীতিকে "অযৌক্তিক" আখ্যা দিয়ে স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষায় পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

উত্তর আমেরিকার ত্রিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (USMCA) ১৬ বছরের জন্য নবায়নের প্রস্তাব কানাডা দিলেও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান শর্তে তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।