যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেল কানাডা, ফল কী
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা থেকে বের হয়ে এসে পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। শেষ মুহূর্তে মার্কিন প্রশাসনের 'অন্যায্য শর্ত' এবং অতিরিক্ত দাবির মুখে অটোয়া এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
সিদ্ধান্তের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন শেষ মুহূর্তে গাড়ি শিল্প ও অন্যান্য দেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করেছে। মার্কিন শুল্ককে কানাডার ওপর 'আক্রমণ' হিসেবে অভিহিত করে কার্নি জানান, দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িক ক্ষতি মেনে নিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কানাডার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী কার্নির এই 'আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ' নীতি কানাডার অভ্যন্তরে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে।
জনগণের সমর্থন: লেগার (Léger)-এর জরিপ অনুযায়ী, ৫৬% কানাডীয় যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ছাড় না দিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে। এছাড়া অ্যাবাকাস ডেটার জরিপে ৩৬% নাগরিক সরাসরি সরকারের পাল্টা শুল্কারোপকে সমর্থন করেছেন।
প্রাদেশিক নেতাদের ঐক্য: বাণিজ্যে ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও কানাডার প্রাদেশিক নেতারা ঐক্যবদ্ধ। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এই লড়াইয়ে কানাডাই জয়ী হবে।
বিরোধী দলের সমর্থন: বিরোধী কনজারভেটিভ নেতা পিয়েরে পয়লিয়েভর কার্নির আলোচনার টেবিল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, কানাডার শিল্পভিত্তি ধ্বংস করে এমন কোনো একতরফা চুক্তি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
মার্কিন অর্থনীতিতে পাল্টা প্রভাব ও বর্জন
কানাডীয়দের প্রতিক্রিয়া ও সরকারের গৃহীত ব্যবস্থার কারণে ইতোমধ্যে মার্কিন অর্থনীতিতেও ধাক্কা লাগতে শুরু করেছে। পর্যটন বর্জন করায় ক্ষুব্ধ কানাডীয়রা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ এড়িয়ে চলায় মার্কিন পর্যটন খাত প্রায় ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব হারিয়েছে।
পণ্য বর্জনের কারণে কানাডার প্রাদেশিক দোকানগুলো থেকে মার্কিন মদ সরিয়ে নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াইন রপ্তানি ৭৮% এবং স্পিরিটস রপ্তানি ৭০%-এরও বেশি কমে গেছে।
সীমাহীন বাণিজ্যিক চাপ সত্ত্বেও কানাডা সরকার, বিরোধী দল এবং সাধারণ জনগণ একজোট হয়ে নিজ দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখছে।