শুধু মদ্যপান নয়, অতিরিক্ত ওষুধেও হতে পারে লিভারের ক্ষতি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
Main News Image

সাধারণভাবে ধারণা করা হয় যে, কেবল অনিয়ন্ত্রিত মদ্যপান বা তৈলাক্ত খাবারই লিভার বা যকৃতের ক্ষতির প্রধান কারণ। কিন্তু চিকিৎসা গবেষকেরা জানাচ্ছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। ডাক্তারদের পরামর্শ ছাড়া ভুল নিয়মে বা অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ সেবনও হতে পারে লিভারের চরম শত্রু। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ওষুধ বা ভেষজ সাপ্লিমেন্ট থেকে সৃষ্ট লিভারের এই ক্ষতিকে বলা হয় ‘ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি’ (Drug-Induced Liver Injury) বা সংক্ষেপে DILI। শরীরকে সুস্থ রাখতে আমরা যে সব ওষুধ সেবন করি, সচেতনতার অভাবে সেগুলোই কীভাবে আমাদের লিভার ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা অত্যন্ত জরুরি।

কীভাবে ঘটে এই ক্ষতি?

রোগের উপশমে বা সামান্য শারীরিক অসুস্থতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আজকাল নিজস্ব বুদ্ধিতে ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক কিনে খাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমস্যা হলো, এভাবে ওষুধ সেবনে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম, সঠিক মাত্রা বা সময়সীমা মানা হয় না। কোনো রোগ ভাইরাসঘটিত নাকি ব্যাকটেরিয়াজনিত, সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় একের ওষুধ অন্য রোগে সেবন করে বিপত্তি ডেকে আনা হয়। এর পাশাপাশি ইদানীং বাজারে প্রচলিত নানা ধরনের ভেষজ ও ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার হার বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন এ জাতীয় সাপ্লিমেন্ট খেলে ফ্যাটি লিভার, যকৃতের প্রদাহ এবং এমনকি লিভার সিরোসিস হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।

ওষুধের মাধ্যমে লিভার ক্ষতির ধরন

চিকিৎসা গবেষকদের মতে, প্রধানত দুই উপায়ে ওষুধ লিভারের ক্ষতিসাধন করে থাকে: ১. ইনট্রিনজিক ডিআইএল (Intrinsic DILI): এটি সরাসরি ওষুধের মাত্রা বা ডোজের ওপর নির্ভর করে। নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি ওষুধ খেলে, অনিয়মিত সেবন করলে বা ভুল ওষুধ খেলে লিভার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২. ইডিয়োসিনক্র্যাটিক ডিআইএল (Idiosyncratic DILI): এটি মূলত রোগীর জিনগত কাঠামোর বিশেষত্ব এবং ওষুধের ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার যৌথ প্রভাবে ঘটে থাকে। এক্ষেত্রে দীর্ঘদিন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন চালিয়ে গেলে মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়।

যেসব ওষুধে রয়েছে সর্বোচ্চ ঝুঁকি

দৈনন্দিন জীবনে বহুল ব্যবহৃত বেশ কিছু ওষুধ লিভারের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। জ্বর বা ব্যথানাশক হিসেবে অতি পরিচিত কিছু ওষুধ মাত্রাতিরিক্ত বা দীর্ঘকাল সেবন করলে লিভার বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নাক, কান ও গলার সংক্রমণ, শ্বাসনালীর রোগ কিংবা যক্ষ্মার চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিশেষ কিছু অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের তদারকি ছাড়া খেলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়।

নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি (NSAID) ক্যাটাগরির ব্যথানাশক ওষুধ প্রতিনিয়ত খেলে লিভারের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে এবং আস্তে আস্তে কর্মক্ষমতা কমে যায়।

ক্যানসার প্রতিরোধে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু শক্তিশালী ওষুধ এবং কেমোথেরাপির ড্রাগস লিভারের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই এগুলো সবসময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কঠোর নজরদারিতে সেবন করা উচিত।

প্রতিরোধ ও সচেতনতা

লিভারকে সুরক্ষিত রাখতে যেকোনো শারীরিক সমস্যায় অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক। কোনো অবস্থাতেই ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া চলবে না। নিবন্ধিত চিকিৎসকের দেওয়া নির্ধারিত ডোজ ও সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে ওষুধ সেবন করার মাধ্যমেই কেবল ‘ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি’ থেকে আত্মরক্ষা করা সম্ভব।