তুলসীর বীজে কমবে কোলেস্টেরল?

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১০ এএম
Main News Image

আধুনিক জীবনযাত্রা ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া অত্যন্ত সাধারণ একটি স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন অনেকেই। সম্প্রতি স্বাস্থ্য সচেতনদের তালিকায় বা ‘সুপারফুড’-এর তালিকায় শীর্ষ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে বিশেষ এক প্রকার বীজ, যা তুলসী বীজ বা ‘সবজা বীজ’ নামে পরিচিত। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের আলোচনা—সবত্রই এখন এই বীজের কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষ চর্চা চলছে।

তুলসী বীজের পুষ্টিগুণ

তুলসী বীজ দেখতে ছোট এবং কালো রঙের হলেও এর পুষ্টিগুণ অপরিসীম। জলে ভিজিয়ে রাখলেই এটি ফুলে উঠে জেলি বা থকথকে উপাদানে পরিণত হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে দ্রাব্য ডায়েটারি ফাইবার (Soluble Dietary Fibre), উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং পলিফেনল রয়েছে। এ ছাড়াও এই বীজে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান বিদ্যমান। অনেকে একে চিয়া বীজের বিকল্প বা তার চেয়েও বেশি কার্যকরী বলে গণ্য করছেন।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে তুলসী বীজের ভূমিকা

চিকিৎসকদের মতে, তুলসী বীজে থাকা উচ্চমাত্রার দ্রাব্য ফাইবার পরিপাকতন্ত্রে পৌঁছানোর পর জলে ভিজে জেলির মতো আস্তরণ তৈরি করে। এই জেলি অন্ত্রে খাদ্যের মধ্যে থাকা কোলেস্টেরল শোষণের প্রক্রিয়াকে ধীর ও বাধাগ্রস্ত করে। পাশাপাশি, এটি পিত্তথলি থেকে নিঃসৃত পিত্ত অ্যাসিডকে (Bile Acid) ধরে রেখে শরীরের বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। পিত্ত অ্যাসিড তৈরিতে লিভার রক্ত থেকে কোলেস্টেরল গ্রহণ করে, ফলে রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মত ও সীমাবদ্ধতা

মধুমেহ বিশেষজ্ঞ ড. আশিস মিত্রের মতে, তুলসী বীজ বা ইসবগুলের মতো ফাইবারসমৃদ্ধ উপাদান রক্তে কোলেস্টেরলের শোষণ কমাতে কার্যকর। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন—আমাদের শরীরে কোলেস্টেরল আসার দুটি প্রধান পথ রয়েছে: একটি হলো খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যটি লিভার কর্তৃক স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি কোলেস্টেরল। তুলসী বীজ কেবল খাবারের মাধ্যমে আসা কোলেস্টেরলের শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে, লিভারের তৈরি কোলেস্টেরলে এর কোনো সরাসরি ভূমিকা নেই। তাই শুধু বীজ খেয়ে কোলেস্টেরল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এর সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, ব্যায়াম এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা জরুরি।

খাওয়ার সঠিক নিয়ম

তুলসী বীজ শুকনো না খেয়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখা উচিত। বীজ ফুলে জেলি হয়ে গেলে তা টক দই বা ইয়োগার্টের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। এ ছাড়া ঈষদুষ্ণ জলে ইসবগুল বা তুলসী বীজ ভিজিয়ে খাওয়াও সমান উপকারী।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রেখে দৈনিক খাদ্যতালিকায় তুলসী বীজ রাখলে হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা এবং রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়ে ওঠে।