পেটে এলেও মুখে আসে না কেন? টিপ-অফ-দ্য-টাং কী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
Main News Image

কথা বলার সময় কোনো পরিচিত ব্যক্তির নাম, জায়গার নাম বা সাধারণ কোনো শব্দ জানা থাকা সত্ত্বেও ঠিক সময়ে মনে করতে না পারা একটি অতি পরিচিত ঘটনা। মনে হয় শব্দটি একেবারে জিভের ডগায় রয়েছে, কিন্তু মুখ দিয়ে বেরোচ্ছে না। কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট পর আবার হঠাৎ সেই শব্দটি ভেসে ওঠে। এই চিকিৎসাসংক্রান্ত অবস্থাকে বলা হয় ‘টিপ-অফ-দ্য-টাং’ (Tip-of-the-Tongue)।

১. ‘টিপ-অফ-দ্য-টাং’ কেন ও কীভাবে ঘটে?

মস্তিষ্কের ভাষা ও স্মৃতি সম্পর্কিত বিভিন্ন অংশের মধ্যকার জটিল যোগাযোগের প্রক্রিয়ায় সাময়িক ধীরগতি বা বাধা তৈরি হলে এই অবস্থা ঘটে। এই অবস্থায় শব্দটি মস্তিষ্ক থেকে স্থায়ীভাবে মুছে যায় না; বরং স্মৃতিতে জমে থাকা সঠিক তথ্যটি সেই নির্দিষ্ট মুহূর্তে খুঁজে পেতে বিলম্ব হয়।

প্রায়শই দেখা যায় শব্দটির অর্থ, তার বিবরণ বা প্রথম অক্ষর মনে থাকে, কিন্তু পুরো শব্দটি বলা যায় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিষয়টি কয়েক সেকেন্ড থেকে মিনিটের মধ্যে নিজে থেকেই সমাধান হয়ে যায় এবং এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক তথ্য অনুসন্ধান প্রক্রিয়ারই অংশ।

২. টিপ-অফ-দ্য-টাং-এর প্রধান কারণসমূহ

অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ, মানসিক চাপ স্নায়বিক সংকেত পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ঘুম কম হলে মস্তিষ্কের তথ্য প্রসেসিং এবং স্মৃতি পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা কমে যায়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কে সংরক্ষিত তথ্য খোঁজার গতি কিছুটা ধীর হয়ে যাওয়া একটি স্বাভাবিক নিয়ম। একসাথে একাধিক চিন্তা বা কাজের চাপ থাকলে মনোযোগের ঘাটতি তৈরি হয়।

৩. যেসব শারীরিক বা মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে

যদি এই সমস্যাটি ঘন ঘন ঘটে, তবে তা কেবল ক্লান্তি বা বয়সের কারণ না-ও হতে পারে। এটি নিচের স্বাস্থ্যগত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

ভিটামিন B12-এর ঘাটতি, থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা, বিষণ্নতা (Depression) ও তীব্র উদ্বেগ (Anxiety), অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ও শ্রবণশক্তির সমস্যা।

৪. কখন নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেবেন?

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

পরিচিত নাম বা অতি সাধারণ শব্দ প্রতিদিনের কথাবার্তায় বারবার ভুলে যাওয়া। নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে বা অন্যের কথাকথন অনুসরণ করতে সমস্যা হওয়া। পরিচিত রাস্তায় চলাচলের সময় পথ হারিয়ে ফেলা বা দিকভ্রান্ত হওয়া। দৈনন্দিন সাধারণ কাজগুলো সম্পাদন করতে অসুবিধা হওয়া। কাছের মানুষের ক্ষেত্রে আচরণ বা স্মৃতিশক্তির আকস্মিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা।

৫. জরুরি সতর্কতা: স্ট্রোকের লক্ষণ

যদি শব্দ মনে না পড়ার সমস্যাটি হঠাৎ করেই শুরু হয় এবং এর সঙ্গে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দেয়, তবে তা স্ট্রোকের (Stroke) পূর্বাভাস হতে পারে। কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অস্পষ্ট হয়ে আসা। মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া বা ঝুলে পড়া। হাত, পা বা শরীরের একপাশে আকস্মিক দুর্বলতা ও অসাড়তা। হঠাৎ চরম বিভ্রান্তি বা মনোযোগ হারানোর অনুভূতি।

এসব লক্ষণ দেখা দিলে মুহূর্ত বিলম্ব না করে দ্রুততম সময়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে।