বারবার মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে কেন?

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
Main News Image

ডায়েট চলাকালীন বা সুস্থ জীবনযাপনে মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছে দমন করা অনেকের জন্যই কঠিন। বিশেষ করে মিষ্টি খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামার কারণে শরীর বারবার চিনি জাতীয় খাবার খোঁজে। তবে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে ইতালির জনপ্রিয় ডেজার্ট তিরামিসুর এক স্বাস্থ্যকর রূপ— তিরামিসু চিয়া পুডিং।

এআইআইএমএস (AIIMS)-প্রশিক্ষিত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠির মতে, মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমাতে হলে এমন খাবার বেছে নেওয়া প্রয়োজন যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। এই ক্ষেত্রে চিয়া সিড দিয়ে তৈরি পুডিং অত্যন্ত কার্যকর।

চিয়া সিডের স্বাস্থ্যগুণ

এই রেসিপির প্রধান উপাদান চিয়া সিড। ক্ষুদ্র এই বীজে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এগুলি হজমের গতি ধীর করে দেয়, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ খিদে পায় না এবং হঠাৎ মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকিংয়ের প্রবণতা অনেকটাই কমে আসে। কোকো ও কফির সমন্বয়ে এটি চিরামিসুর মতোই সুস্বাদু হয়, অথচ বাড়তি চিনির প্রয়োজন পড়ে না।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

চিয়া সিড: ৩ টেবিল চামচ

দুধ: ১ কাপ (গরুর দুধ বা যেকোনো উদ্ভিজ্জ দুধ যেমন কাঠবাদামের দুধ)

কোকো পাউডার: ১-২ চা-চামচ (চিনি ছাড়া)

কফি বা এসপ্রেসো: ১-২ চা-চামচ (পছন্দ অনুযায়ী)

মিষ্টির উপাদান: মধু, ম্যাপল সিরাপ বা স্টেভিয়া (স্বাদমতো)

ভ্যানিলা এসেন্স: কয়েক ফোঁটা

টপিং (সাজানোর জন্য): ডার্ক চকোলেট কুচি, ভাজা বাদাম বা টাটকা বেরি

প্রস্তুত প্রণালী

মিশ্রণ তৈরি: একটি পাত্র বা কাচের জারে দুধ, চিয়া সিড, কোকো পাউডার, কফি এবং ভ্যানিলা এসেন্স একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

মিষ্টি যোগ: এবার এতে পছন্দমতো মধু, ম্যাপল সিরাপ বা স্টেভিয়া যোগ করে আবার নেড়ে দিন।

সেট হতে দেওয়া: মিশ্রণটি ঢেকে অন্তত ২ ঘণ্টা, বা সম্ভব হলে সারারাত ফ্রিজে রেখে দিন। ফ্রিজে রাখলে চিয়া সিড দুধ শুষে ফুলে উঠবে এবং থকথকে পুডিংয়ের রূপ নেবে।

পরিবেশন: ফ্রিজ থেকে বের করে ভালো করে নেড়ে নিন। পরিবেশনের আগে ওপর থেকে কিছু ডার্ক চকোলেট কুচি, ভাজা বাদাম বা দারচিনি গুঁড়ো ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে: মিশ্রণে গ্রিক ইয়োগার্ট বা প্রোটিন পাউডার যোগ করা যেতে পারে।

ক্যাফেইন এড়াতে: কফির জায়গায় ডিক্যাফ কফি বা কফি ফ্লেভারের নির্যাস ব্যবহার করা সম্ভব।

মিষ্টির মাত্রা: ধীরে ধীরে মিষ্টির পরিমাণ কমালে জিভ স্বাভাবিক স্বাদের সঙ্গে মানিয়ে নেয়।

কোনো ডেজার্টই অলৌকিক সমাধান নয়, তবে ফাইবার ও দরকারি পুষ্টিগুণে ভরপুর এই পুডিং ক্যালোরি ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে মিষ্টি খাওয়ার স্বাদ মেটাতে দারুণ সাহায্য করে।