প্রস্টেট ক্যান্সার থেকে ‘বোন মেটাস্ট্যাসিস’: লক্ষণ ও চিকিৎসা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
Main News Image

প্রস্টেট ক্যান্সার যখন প্রাথমিক স্থান থেকে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়াতে শুরু করে, তখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয় হাড়। প্রস্টেট থেকে ক্যান্সার কোষ হাড়ে ছড়িয়ে পড়ার এই চিকিৎসাবিজ্ঞানগত প্রক্রিয়াকেই বলা হয় ‘বোন মেটাস্ট্যাসিস’ (Bone Metastasis)। সম্প্রতি আমেরিকান রাজনীতির শীর্ষ আলোচনায় এই ব্যাধিটি পুনঃপ্রাধান্য পেয়েছে, যা প্রস্টেট ক্যান্সারের চতুর্থ পর্যায় (Stage IV) বা চূড়ান্ত রূপকে নির্দেশ করে।

বোন মেটাস্ট্যাসিস কী?

ক্যান্সার আক্রান্ত মূল অঙ্গ (যেমন: প্রস্টেট, স্তন বা ফুসফুস) থেকে রক্তপ্রবাহ কিংবা লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমের মাধ্যমে ক্যান্সার কোষ ছড়িয়ে পড়ে যখন হাড়ে নতুন টিউমার বা ক্যান্সার পিণ্ড তৈরি করে, তাকে বোন মেটাস্ট্যাসিস বলে।

প্রস্টেট ক্যান্সারের বিস্তার: প্রস্টেট ক্যান্সার সাধারণত শরীরের কোমর, মেরুদণ্ড, পেলভিস বা নিতম্বের হাড় এবং পাঁজরে সবচেয়ে বেশি ছড়ায়।

মূল পার্থক্য: বোন মেটাস্ট্যাসিস কিন্তু নতুন করে কোনো ‘হাড়ের ক্যান্সার’ (Primary Bone Cancer) নয়। হাড়ে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সার কোষগুলো আসলে মূল প্রস্টেট ক্যান্সারেরই অংশ এবং এর আচরণও প্রস্টেট ক্যান্সারের মতোই হয়।

আক্রান্ত শরীরে দেখা দেওয়া লক্ষণ ও জটিলতা

ক্যান্সার হাড়ে ছড়িয়ে পড়লে রোগীর শরীরে মারাত্মক কিছু শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়:

দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হাড়ের ব্যথা: আক্রান্ত স্থানে প্রচণ্ড যন্ত্রণা অনুভূত হয়, যা বিশেষ করে রাতের বেলা কিংবা শারীরিক নাড়াচাড়ার সময় বহুগুণ বেড়ে যায়।

হাড় অতিমাত্রায় ভঙ্গুর হওয়া: ক্যান্সার কোষ হাড়ের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করে দেয়। ফলে হাড় এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে সামান্য আঘাত বা দৈনন্দিন চলাফেরাতেই ফ্র্যাকচার বা হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

হাইপারক্যালসেমিয়া (Hypercalcemia): হাড়ের ক্ষয়ের কারণে অতিরিক্ত ক্যালশিয়াম নির্গত হয়ে রক্তের সঙ্গে মিশতে শুরু করে। রক্তে ক্যালশিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, কোষ্ঠকাঠিন্য, তীব্র শারীরিক দুর্বলতা এবং মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

বোন মেটাস্ট্যাসিসের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি

ক্যান্সার একবার হাড়ে ছড়িয়ে পড়লে (স্টেজ-৪) তা সচরাচর শতভাগ নিরাময়যোগ্য থাকে না। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সাহায্যে ক্যান্সারের ব্যাপ্তি কমানো, হাড়ের যন্ত্রণা লাঘব করা এবং রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত রেখে আয়ু বাড়ানো সম্ভব।

হরমোন থেরাপি (Hormone Therapy): পুরুষ হরমোন ‘অ্যান্ড্রোজেন’-এর মাত্রা কমিয়ে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও ছড়ানোর গতি মন্থর করা হয়।

রেডিয়েশন থেরাপি ও রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস: নির্দিষ্টভাবে আক্রান্ত হাড়ে হাই-প্রিসিশন রেডিয়েশন দিয়ে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়, যা তীব্র ব্যথা কমাতে কার্যকর।

হাড় মজবুত করার ওষুধ: হাড়ের ক্ষয় ও ফ্র্যাকচার রোধ করতে ‘বিসফসফোনেটস’ (Bisphosphonates) কিংবা ‘ডেনোসুমাব’ (Denosumab) জাতীয় বিশেষ ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।

কিমোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপি: শরীরের অন্যান্য অংশে ক্যান্সারের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক কোষ ধ্বংসের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।